ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার, ৪ দিনের রিমান্ডে

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে হত্যাচেষ্টার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এরপর ওই মামলায় তাকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক গ্রেপ্তার দেখানো ও রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সোনা চোরাচালান ও অর্থপাচারের অভিযোগে সিআইডির দায়ের করা একটি মামলায় দুপুরের পর একদিনের রিমান্ডে শেষে আগারওয়ালাকে আদালতে হাজির করা হয়। ওই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। বিকেলে শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মো. সুমন মিয়া। আগারওয়ালার পক্ষে রিমান্ড বাতিলের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৪ দিন রিমান্ড মনজুর করেন।
যে মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে সেই মামলার বাদী আ. জব্বার। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ তারা পশ্চিম থানায় দায়ের করা এই মামলার অভিযোগে বাদী বলেন, জুলাই/২০২৪ থেকে ছাত্রজনতা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু করে। বাদী ছাত্রদের সঙ্গে একাত্তা ঘোষনা করে আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতা ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ স্বৈরাচার সরকার পতনের একদফা দাবিতে উত্তরার বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেয়। ৫ আগস্ট বাদী আ. জব্বার উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর বিএনএস সেন্টারের পশ্চিম পাশে রাস্তার ওপর শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। দুপুর ১২ টায় একটি বুলেট বাদীর শরীরের (মেরুদন্ডের নিচে কোমরের ওপরে) প্রবেশ করে। তৎক্ষণাৎ বাদী রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত আন্দোলনকারীরা বাদীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (পিজি হাসপাতাল) নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, দিলীপ কুমার আগারওয়ালা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন। তিনি এই মামলার অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে মামলার ঘটনাস্থলে স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে মামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তথ্য প্রমান পাওয়া যাচ্ছে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য তাদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ ও ঘটনার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগারওয়ালাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বনানী থেকে আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরদিন সিআইডির দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে একদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। এরপর বিভিন্ন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।









