Ajker Patrika

বেইলি রোডে আগুনে ৪৬ জনের মৃত্যু: আত্মসমর্পণের পর একজনের জামিন, আরেকজনের আবেদন প্রত্যাহার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বেইলি রোডে আগুনে ৪৬ জনের মৃত্যু: আত্মসমর্পণের পর একজনের জামিন, আরেকজনের আবেদন প্রত্যাহার
রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনে আগুনে ৪৬ জনের প্রাণহানির পর ওই রোডের ১৩টি রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর বেইলি রোডে ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ ভবনে আগুনে ৪৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত দুই আসামি আত্মসমর্পণ করেছিলেন। আত্মসমর্পণের পর জামিন আবেদন করলে তাঁদের মধ্যে একজনকে জামিন দেওয়া হয়েছে। আরেকজন জামিন আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিন এ নির্দেশ দেন।

অভিযোগপত্রভুক্ত ২ নম্বর আসামি আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ ও ২১ নম্বর আসামি হাক্কা ঢাকা রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আবিদ আলম আজ সকালে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। দুপুরের পর শুনানি শেষে আদালত আবিদ আলমকে জামিন দেন। অন্যদিকে শুনানির আগে আমিন মোহাম্মদের রমজানুল হক নিহাদ জামিন আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। পরে তিনি আদালত ত্যাগ করেন।

এর আগে গত ১৯ এপ্রিল এই দুই আসামিসহ ১৩ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার পেট্রোপলিটের ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। গত ২ এপ্রিল ২২ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী।

অভিযোগপত্রে ভবনটির বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক এবং সংশ্লিষ্টদের আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রে যাঁদের আসামি করা হয়, তাঁরা হলেন—চায়ের চুমুক কফিশপের স্বত্বাধিকারী আনোয়ারুল হক; আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ; আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার মুন্সি হামিমুল আলম বিপুল; কাচ্চি ভাই, খানাজ ও তাওয়াজ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল সিরাজ; চায়ের চুমুক কফিশপের স্পেসের মালিক ইকবাল হোসেন কাউসার; কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার জেইন উদ্দিন জিসান; জেস্টি রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মোহর আলী পলাশ ও মো. ফরহাদ নাসিম আলীম; ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মতিন; ষষ্ঠ তলার ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম খাঁন; মেজবানিখানা রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী লতিফুর নেহার, খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও অঞ্জন কুমার সাহা; অ্যামব্রোশিয়া রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. মুসফিকুর রহমান; পিৎজাইন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী জগলুল হাসান; স্ট্রিট ওভেন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আশিকুর রহমান ও হোসাইন মোহাম্মদ তারেক; ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহম্মেদ, মো. সাদরিল আহম্মেদ শুভ, আদিব আলম, রাফি উজ-জাহেদ ও শাহ ফয়সাল নাবিদ।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও মৃত্যুবরণ করায় ভবনটির মালিক এ কে নাসিম হায়দার ও ক্যাপ্টেন সরদার মো. মিজানুর রহমানকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত তাঁদের অব্যাহতি দিয়েছেন।

এ ছাড়া মো. আনোয়ার হোসেন সুমন ও শফিকুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ জন্য তাঁদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। আদালত তাঁদেরও অব্যাহতি দেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়, ১১ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন আর জীবিত উদ্ধার করা হয় ৭৫ জনকে।

ঘটনার পরদিন ১ মার্চ রমনা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। এতে হত্যাচেষ্টা, অবহেলাজনিত নরহত্যা, তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ, ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা এবং এর ফলে প্রাণহানি ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ওই ভবনের মালিক, দোকানমালিক ও সংশ্লিষ্ট সবার গাফিলতি, দায়িত্বে অবহেলা ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং তাঁদের আচরণ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত