Ajker Patrika

ঢাবিতে ছয় সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

ঢাবি প্রতিনিধি
আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ৪৬
ঢাবিতে ছয় সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে ‘প্রতিবাদী দেয়াললিখন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবির-সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) একই দিনে পৃথক দুটি ঘটনায় ছয়জন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় বিজয় ৭১ হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) তিন সদস্য হেনস্তার শিকার হন। এ সময় প্রাইম বাংলাদেশের ঢাবি প্রতিনিধি ইফতেখার সোহান সিফাতকে ভিডিও করতে বাধা দেন ছাত্রদল কর্মী নাভিদ আনজুম নিভান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিফাত নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিলেও নিভান তাঁকে ভিডিও ধারণে বাধা দিয়ে বলেন, ‘সাংবাদিক হলেই এখানে ভিডিও করা যাবে না।’ এ সময় ডুজার আরও দুই সদস্য—দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খান ও নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি হারুন ইসলাম প্রতিবাদ জানালে তাঁরাও হেনস্তার শিকার হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ নেতারা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় সংসদের কক্ষের সামনে দেয়াললিখনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে। পরে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল থেকে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে একই দিন গভীর রাতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে আরেক ঘটনায় আরও তিনজন সাংবাদিককে হেনস্তা করা হয়েছে। হলটিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দেয়াললিখনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁরা হেনস্তার শিকার হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হলের একটি কক্ষে হাউস টিউটরের উপস্থিতিতে বৈঠক চলাকালে তিন সাংবাদিক সেখানে প্রবেশ করলে তাঁদের বের হয়ে যেতে বলা হয়। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী তাঁদের দিকে তেড়ে আসেন।

হেনস্তার শিকার ডেইলি অবজারভারের ঢাবি প্রতিনিধি নাঈমুর রহমান ইমন বলেন, ‘আমরা পরিচয় দেওয়ার পরও বলা হয়—হলের বিষয়, বাইরে থেকে কেন আসছেন। এরপর কয়েকজন আমাদের দিকে তেড়ে আসে এবং মারধরের চেষ্টা করে।’

সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনার পর ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামীসহ কয়েকজন নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় তাঁরা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্ক থাকার আশ্বাস দেন।

সাংবাদিকদের হেনস্তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মনজুর হোসেন মাহি। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা নিন্দনীয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত