Ajker Patrika

নুসরাত হত্যা মামলা: মুক্ত হলো জন্ম থেকে ৭ বছর কারাগারে কাটানো শিশুটিও

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
নুসরাত হত্যা মামলা: মুক্ত হলো জন্ম থেকে ৭ বছর কারাগারে কাটানো শিশুটিও
অবশেষে মায়ের সঙ্গে মুক্তি পেল শিশু রাথী। ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় খালাস পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন কামরুন্নাহার মনি। তবে তাঁর এই মুক্তির দিনে সবার নজর ছিল তাঁর সাত বছর বয়সী মেয়ে মোবাশ্বেরা খানম রাথীর দিকে, যার জন্ম ও বেড়ে ওঠার পুরোটাই কেটেছে কারাগারের চার দেয়ালের ভেতর।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কামরুন্নাহার মনি কারামুক্ত হন। একই দিনে ওই মামলায় খালাস পাওয়া আরও সাতজন কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

দীর্ঘ সাত বছর পর স্বজনদের কাছে পাওয়ার আনন্দে কারাগারের বাইরে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

গর্ভে সন্তান নিয়ে গ্রেপ্তার, জেলখানাতেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা

২০১৯ সালে নুসরাত হত্যা মামলায় যখন কামরুন্নাহার মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ওই অবস্থাতেই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাবাস চলাকালেই মনি জন্ম দেন কন্যাসন্তান মোবাশ্বেরার।

জন্মের পর থেকে মায়ের সঙ্গে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারেই কেটেছে শিশুটির জীবনের সাতটি বছর। কারাগারের ভেতরেই চলত তার পড়ালেখা।

কারাগারের ফটকে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মনি বলেন, ‘আমার সন্তানের জন্ম জেলখানাতেই, সাতটি বছর জেলখানাতেই ছিল। সেখানে তাকে আমি দ্বিতীয় শ্রেণির বই পড়িয়েছি, কোরআন শেখার ব্যবস্থা করেছি। নিজের জামা কেটে তাকে একটা স্কুল ব্যাগ বানিয়ে দিয়েছিলাম। ও তো জানতই না আসল স্কুল ব্যাগ কেমন হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাকে বাইরে স্বজনদের কাছে দিয়ে দিলে হয়তো ও ভালো থাকত না। সন্তান মা ছাড়া কখনো ভালো থাকতে পারে না। মা হচ্ছে একটা চাদরের মতো।’

আদালতের রায়ে খালাস পাওয়ার পর গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মোট আটজন মুক্তি পান।

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের মুক্তির আদেশ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর তা যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে আসামিদের মুক্তি দেওয়া হয়।

কারামুক্ত হওয়া অন্য ব্যক্তিরা হলেন: মো. শামীম, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, আফসার উদ্দিন, ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা, আব্দুর রহিম শরীফ।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই কারামুক্তদের স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ফুলের তোড়া ও মালা নিয়ে কাশিমপুর কারাগারের মূল ফটকে অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বজনদের দেখে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

খালাস পাওয়া ইফতেখার উদ্দিন রানার মা হাজেরা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া যে ছেলেকে আবার বুকে ফিরে পেয়েছি। আর কোনো মায়ের সন্তানকে যেন এভাবে নির্দোষ হয়ে কারাবাস করতে না হয়।’

কারাগার থেকে বের হওয়ার পর খালাস পাওয়া ব্যক্তিরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ফেনীর উদ্দেশে রওনা দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত