ডেঙ্গু মোকাবিলায় ডিএসসিসির ২৯ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে বিশেষ অভিযান শুরু

ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২৯টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান শুরু হয়েছে। আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
অভিযান উদ্বোধনের পর আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি, মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ও আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি মশার লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইডিং এবং উড়ন্ত মশা নিধনে অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম চালানো হয়।
কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল ও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।
আবদুস সালাম বলেন, নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, আঙিনা ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। সপ্তাহে অন্তত এক দিন জমে থাকা পানি অপসারণ এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
ডিএসসিসির বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, প্লাস্টিকের বালতিতে ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ, প্লাস্টিকের ড্রামে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ, বেইজমেন্টে জমে থাকা পানিতে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্লাস্টিকের মগে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং ফুলের টবে ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এসব পাত্র ও নিজ আঙিনার বিষয়ে নাগরিকেরা সচেতন হলে প্রাথমিক পর্যায়েই ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ এডিস মশার বিস্তার প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিরূপণ ও এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে ১২ দিনব্যাপী ‘বর্ষাকালীন এডিস লার্ভা জরিপ ২০২৬’ পরিচালনা করা হয়। জরিপের তথ্য বিশ্লেষণে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯ টিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৮ টিকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৮ টিকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, ২৯টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে শুরু হওয়া এ অভিযানে নিবিড়ভাবে লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ড্রেন-খাল ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং বর্জ্য অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও মসজিদের মাধ্যমে জনসচেতনতা কার্যক্রম চালানো হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে মতবিনিময় ও যৌথ অভিযান চালানো হবে। এরপরও কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









