Ajker Patrika

শাকিল-রুপার সম্পদের হিসাব চেয়ে কারাগারে চিঠি পাঠাচ্ছে দুদক

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ৩৩
শাকিল-রুপার সম্পদের হিসাব চেয়ে কারাগারে চিঠি পাঠাচ্ছে দুদক
সাংবাদিক দম্পতি ফারজানা রুপা ও শাকিল আহমেদ। ফাইল ছবি

জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে কারাগারে থাকা সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপার কাছে সম্পদ বিবরণী চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁদের বাড়ির ঠিকানায় নোটিশ পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কারাগারের জেল সুপারের মাধ্যমে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

আজ রোববার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

দুদকের এ কর্মকর্তা বলেন, আগের কমিশন শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপার সম্পদ বিবরণী নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়। তবে পরে দুদক জানতে পারে, তারা পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এ কারণে এখন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাঁদের কাছে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

দুদকের নথি অনুযায়ী, শাকিল আহমেদের জন্য সম্পদ বিবরণীর ফরম নম্বর ০০৭২১৩ এবং ফারজানা রূপার জন্য ০০৭২১৪। আদেশ পাওয়ার পর ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তাঁদের নিজেদের নামে থাকা সম্পদের পাশাপাশি স্বামী বা স্ত্রীর এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে থাকা সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব দিতে হবে।

একই সঙ্গে তাঁদের দায়–দেনা, আয়ের উৎস এবং কীভাবে এসব সম্পদ অর্জন করা হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, শাকিল আহমেদ বর্তমানে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। তাঁর কাছে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ পৌঁছে দিতে ওই কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারের মাধ্যমে নোটিশ জারি করা হবে। অন্যদিকে ফারজানা রূপা মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকায় তাঁর কাছে সংশ্লিষ্ট জেল সুপারের মাধ্যমে আদেশ পৌঁছে দেওয়া হবে।

এর আগে দুদকের কনস্টেবল মো. জুয়েল মিয়া তাদের ঠিকানায় গিয়ে কাউকে না পাওয়ায় আদেশপত্র ও সম্পদ বিবরণীর মূল ফরম ফেরত দেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরে দুদক জানতে পারে, শাকিল ও রূপা পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। এরপর কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের কাছে আদেশ পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শাকিল আহমেদের উদ্দেশে দেওয়া দুদকের আদেশে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে কমিশনের ‘স্থির বিশ্বাস’ হয়েছে যে তিনি জ্ঞাত আয়ের বাইরে নিজের নামে বা বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।

ফারজানা রূপার ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি দুদকের অনুসন্ধান পর্যায়ের অভিযোগ। নথিতে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার কোনো তথ্য নেই।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ (১) ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে তাদের সম্পদ বিবরণী দিতে বলা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, শাকিল আহমেদকে নিজের, স্ত্রীর এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সম্পদের তথ্য দিতে হবে। অন্যদিকে ফারজানা রূপাকে নিজের, স্বামীর এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সম্পদের তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দিতে ব্যর্থ হলে অথবা মিথ্যা বিবরণী দিলে দুদক আইনের ২৬ (২) ধারা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই অভিযোগ অনুসন্ধান দলের নেতা হিসেবে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মেফতাহুল জান্নাত। দলের সদস্য সহকারী পরিচালক মো. কামিয়াব আফতাহি-উন-নবী।

একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক হেড অব নিউজ শাকিল আহমেদ এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপাকে ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। সে সময় তাঁরা ইস্তাম্বুল হয়ে প্যারিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

পরে উত্তরা পূর্ব থানার একটি হত্যা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় পরদিন আদালত তাঁদের চার দিনের রিমান্ডে পাঠান। পরে আদাবর থানায় পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যা মামলাতেও তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০২৬ সালের ১১ মে হাইকোর্ট ফারজানা রূপাকে ছয়টি এবং শাকিল আহমেদকে পাঁচটি মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন দেন। তবে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আরও একটি করে মামলায় জামিন না হওয়ায় তখন তাঁরা কারামুক্ত হতে পারেননি। পরে ৭ জুন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি তাঁদের জামিনের আদেশ স্থগিত করেন। একই সঙ্গে জামিন প্রশ্নে হাইকোর্টের জারি করা রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।

একাত্তর টেলিভিশন ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপাকে তাঁদের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। গ্রেপ্তারের সময় শাকিল প্রতিষ্ঠানটির সাবেক হেড অব নিউজ এবং রূপা সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত