Ajker Patrika

কালীগঞ্জে কামরুন হত্যা: ৯ দিনেও গ্রেপ্তার নেই, বিচারহীনতার শঙ্কায় পরিবার

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি 
কালীগঞ্জে কামরুন হত্যা: ৯ দিনেও গ্রেপ্তার নেই, বিচারহীনতার শঙ্কায় পরিবার
কালীগঞ্জে ডাকাতি ও গৃহবধূ কামরুন হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার নেই এখনো। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের কালীগঞ্জে গৃহবধূ কামরুন আক্তার (৩৫) হত্যা ও ডাকাতির ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ভুক্তভোগী পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারহীনতার শঙ্কার কথা জানিয়েছে।

গত ১৪ আগস্ট দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের মঠবাড়ি তেতুইবাড়ি এলাকার নগরভেলা গ্রামে রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাত দলের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কামরুন আক্তার নিহত হন। গুরুতর আহত হন তার স্বামী মঞ্জুরুল ইসলাম ও বড় মেয়ে সানজিদা আক্তার মিম।

চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি বর্তমানে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ, র‍্যাব-১, ডিবি এবং সিআইডি যৌথভাবে তদন্ত করছে। ঘটনার ১০ দিন পরও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

নিহত কামরুনের ভাশুর ও মঞ্জুরুল ইসলামের বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আজকে ১০ দিন পার হয়ে গেল, অথচ পুলিশ একজন খুনিকেও ধরতে পারল না। আমার ভাই ও তাঁর মেয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে, আর ভাইয়ের বউ কবরে। আধুনিক যুগে সব ধরনের প্রযুক্তি থাকার পরেও খুনিরা কীভাবে এভাবে নিরুদ্দেশ হয়ে থাকতে পারে? আমরা কি বিচার পাব না?’

গিয়াস উদ্দিন আরও বলেন, ‘দয়া করে অপরাধীদের ধরে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার চাই।’

আজ রোববার ভুক্তভোগীর বাড়ি পরিদর্শন করেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি নিজে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। এমনকি আমি এই মুহূর্তে ভুক্তভোগীর বাড়িতেই অবস্থান করছি। আমরা বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করছি। তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছু বলা সম্ভব নয়, তবে আমরা আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারব।’

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ১৪ আগস্ট রাতে ৫-৬ জনের একটি ডাকাত দল ভেন্টিলেটর ভেঙে মঞ্জুরুল ইসলামের ঘরে প্রবেশ করে। ব্যাংক থেকে তোলা ২০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের সময় বাধা দিলে ডাকাতরা কামরুন আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।

হাসপাতালে নেওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যে কামরুন আক্তার মারা যান। মঞ্জুরুল ইসলাম ও তাঁর মেয়ে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে বাড়িতে নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন।

ঘটনার ৯ দিন পার হলেও এলাকায় এখনো সেই রাতের আতঙ্ক কাটেনি। স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত