Ajker Patrika

ছিনতাইয়ের পর গার্মেন্টস কর্মীকে হত্যা: ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ৩৬
ছিনতাইয়ের পর গার্মেন্টস কর্মীকে হত্যা: ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
ফাইল ছবি

রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সায়মন নামে এক গার্মেন্টসকর্মীর টাকা, মোবাইল ছিনতাইয়ের পর খুন করার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১৩ এর বিচারক জাহিদুল ইসলাম এ রায় দেন।

যাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। ছিনতাইকৃত মোবাইল কেনার দায়ে যাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তিনি হলেন মো. সুজন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় কারাগারে থাকা তিন আসামি ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদীকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। সুজন পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আদালত রায়ে বলেছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে। এটি একটি নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে তাই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। তবে দণ্ড কার্যকর করার আগে হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আসামিরা ইচ্ছে করলে সাত দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন বলেও রায়ে বলা হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ছিনতাইকারীদের হাতে নিহত গার্মেন্টসকর্মী সায়মন মিরপুর-১ নম্বরে সনি সিনেমা হলের পেছনে লিবার্টি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর অফিস থেকে বেতন তুলে দুই সহকর্মীর সঙ্গে কেনাকাটা করতে মিরপুর-১ এ যান তিনি। কেনাকাটা শেষে রাত ৯টার দিকে বাসায় ফেরার পথে, অজ্ঞাতপরিচয় তিন ছিনতাইকারী তাঁর পথ আটকায়। তাঁর সঙ্গে কথা আছে বলে তাঁকে নিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধর ভেতরে নিয়ে যায়। তাঁর সবকিছু ছিনতাই করার পর তাঁকে ছুরিকাঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সায়মনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে দারুস সালাম থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের পর হত্যার অভিযোগে এবং সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই পণ্য নিজের কাছে রাখার অপরাধে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন দারুস সালাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহান আহমেদ।

২০২৩ সালের ২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে এ মামলায় বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত