Ajker Patrika

নাসরিন সেজে মনোয়ারার আত্মসমর্পণ, নেওয়া হলো ২ দিনের রিমান্ডে

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ২১: ৪৬
নাসরিন সেজে মনোয়ারার আত্মসমর্পণ, নেওয়া হলো ২ দিনের রিমান্ডে
আত্মসমর্পণ করে ধরা পড়া মনোয়ারা বেগম। ছবি: সংগৃহীত

চেক প্রতারণার এক মামলায় নাসরিন শিকদার সেজে মনোয়ারা বেগমের আত্মসমর্পণের ঘটনায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সেই মনোয়ারাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিকেলে তাঁকে আদালতে হাজির করে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়ালিদ হোসেন মনোয়ারাকে তিন দিনের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতের কোতোয়ালি থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে মনোয়ারা বেগম আসামি নাসরিন শিকদার সেজে আত্মসমর্পণ করেন। আদালতের নির্দেশে তাঁকে আটক করা হয় এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর তাঁকে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়।

মনোয়ারা বেগমের স্বামীর নাম বিল্লাল হোসেন। তিনি সূত্রাপুর থানার কলতাবাজার এলাকায় থাকেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁওয়ে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চেক প্রতারণার একটি মামলার আসামি নাসরিন শিকদার। শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার চামতা পঞ্চপল্লি গ্রামের শামসুল হকের মেয়ে তিনি। তাঁর স্বামীর নাম জিয়াউর রহমান। তিনি গুলশান ২ নম্বরের ১০৬ নম্বর রোডে থাকেন।

চেক প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১৬ জুন আসামি নাসরিন শিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। ওই দিন নাসরিন শিকদার অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকায় বৃহস্পতিবার ঢাকার আদালতের আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসেনের মাধ্যমে নাসরিন শিকদার আত্মসমর্পণ করেন। শুনানির সময় নথি উপস্থাপন করা হলে আদালত আসামিকে ডাকেন। কিন্তু আসামির চেহারা দেখে আদালতের সন্দেহ হলে তাঁর নাম-ঠিকানা, বাবার নাম, স্বামীর নাম জিজ্ঞেস করলে আসামি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। বিভিন্ন প্রশ্ন করার একপর্যায়ে আসামি স্বীকার করেন তিনি এই মামলার আসামি নাসরিন শিকদার নন। পরে আদালত তাঁকে আটক করার নির্দেশ দেন। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আটক করে।

মামলার নথি থেকে দেখা যায়, রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকার বাসিন্দা নিবেদিতা আহমেদ তুলিকে তাঁর পাওনা টাকা পরিশোধের উদ্দেশ্যে আসামি নাসরিন শিকদার ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ২৯ লাখ টাকার ব্র্যাক ব্যাংকের একটি চেক দেন। নিবেদিতা আহমেদ তুলি সোনালী ব্যাংক কন্টিনেন্টাল শাখায় চেকটি জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রত্যাখ্যাত (ডিজঅনার) হয়। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার পর ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ নিবেদিতা আহমেদ তুলি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। পরে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর নাসরিন শিকদার জামিন পান। এরপর মামলা বিচারের জন্য ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হলে সেখানে হাজির না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

প্রতারণা এবং জালিয়াতির অভিযোগের এই মামলায় মনোয়ারা বেগম নাসরিন শিকদার ও আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদন শুনানির সময় আদালত মনোয়ারার কাছে জানতে চান, তিনি আগে কখনো এ ধরনের কাজ করেছেন কি না। জবাবে মনোয়ার বলেন, ‘না’। নাসরিন শিকদারের সঙ্গে তাঁর কী সম্পর্ক—এমন প্রশ্নের জবাবে মনোয়ারা বলেন, ‘কিছু না’। এরপর বিচারক জানতে চান, ‘কিছু না হলে কেন প্রক্সি হয়েছেন?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি চেম্বারে কাজ করি। উকিল নিয়ে গেছে।’ এ সময় বিচারক তাঁকে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সবকিছু খুলে বলার নির্দেশ দেন। পরে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মনোয়ারার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত