হারুনুর রশিদ (রায়পুরা) নরসিংদী

সবজির জন্য প্রসিদ্ধ নরসিংদী জেলায় কয়েক দফায় টানা বৃষ্টির কারণে ভরা মৌসুমেও উৎপাদন কম। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারগুলোতে। ফলে সব ধরনের সবজির দাম বেশ ঊর্ধ্বমুখী। গতকাল শনিবার জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
চাষিরা বলছেন, বেশ কয়েকবার টানা বৃষ্টির কারণে সবজির খেত নষ্ট হওয়ায় উৎপাদন কমেছে। এতে খরচ ওঠাতেই হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। বেশি দামে কিনে অল্প লাভে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। এদিকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাজারে সবজি আনামাত্র বিক্রি হচ্ছে।
সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, চড়া দামে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট অন্তহীন। সবজির দাম কবে কমবে, তা-ও জানেন না তাঁরা। কম সরবরাহের সুযোগে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে রাতারাতি সবজির দাম বাড়াচ্ছেন বলে দাবি তাঁদের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় টানা বৃষ্টিতে ৫ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজি নষ্ট হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তারা। জেলার শিবপুর, রায়পুরা ও বেলাবতে সমতল ও উঁচু জমিতে সারা বছর সবজির চাষ হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে ১০ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ এবং ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬৬ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আগাম চাষাবাদ হয়েছে। অন্যদিকে কৃষক পর্যায়ে ২০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা আছে, যা থেকে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, নরসিংদীর উৎপাদিত সবজি রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে।দাম বাড়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে পাইকারি হাট রাধাগঞ্জ, শিবপুর, বারৈচা ও নারায়ণপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন। কিন্তু উৎপাদন কম ও চাহিদা বেশি থাকায় সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী।
ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, পাইকারি ও খুচরা বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বেশ চড়া। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শসা ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৭৫ থেকে ৯০, কাঁকরোল ৭৫ থেকে ৮০, করলা ৯০, উচ্ছে ৮০, ঝিঙে ৭০, ঢ্যাঁড়স ৮০, লাউ ৬০ থেকে ৭০, ধুন্দুল ৫০ থেকে ৬০, পটোল ৭০, বরবটি ৭০, কচুর মুখি ৬০, আমড়া ৩০ থেকে ৩৫, জলপাই ৩০ থেকে ৩৫, মরিচ ৩২০ থেকে ৩৫০, চিচিঙ্গা ৭৫, পেঁপে ২৮ থেকে ৩০, আলু ৫৫, পেঁয়াজ ১০০, রসুন ২১০, প্রতিটি জাম্বুরা ২০ থেকে ২৫, প্রতি আঁটি লালশাক ১০, পুঁইশাক ২০, লাউশাক ২০ এবং লতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু ৬৫ টাকা, বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, পেঁয়াজ ১১০, চিচিঙ্গা ৮০, ধুন্দুল ৭০, পটোল ৮০, ঢ্যাঁড়স ৮০, কাঁকরোল ৯০, কাঁচা মরিচ ৪২০, টমেটো পাকা ২৩০, প্রতিটি লেবু মাঝারি ৫ থেকে ১০ টাকা, মিস্টিকুমড়া ৬৫ থেকে ৮০, লতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা আঁটি এবং ডাঁটা ও পুঁইশাক প্রতি আঁটি ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রায়পুরা উপজেলার নয়াচর গ্রামের কৃষক মজিবর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর শীতকালীন সবজি চাষ করি। গত বছর তিন বিঘা জমিতে সবজি চাষ করে খরচ বাদে লাভ হয়েছিল ৪ লাখ টাকা। এবারও লাভের আশায় ফুলকপি, বাঁধাকপি টমেটোসহ শীতকালীন সবজি
চাষের জন্য প্রায় তিন বিঘা জমি প্রস্তুত করেছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সব ভেস্তে গেছে।’
উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুরা গ্রামের কৃষক দানিছ মিয়া বলেন, ‘তিন বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করি। চাষাবাদে খরচ হয় ৬৫ হাজার টাকা। টানা বৃষ্টিতে সব গাছের গোড়ায় পচন ধরে নষ্ট হয়ে গেছে।’ কৃষক আব্দুল মালেক, শ্যামল, কাওছারের মতো অনেকের দাবি, ফসল উৎপাদনে খরচ বেড়েছে। কৃষি যন্ত্রপাতি, ডিজেল, সার ও কীটনাশকের দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সার্বিক বিষয়ে নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আজিজুল রহমান বলেন, টানা বৃষ্টিতে সবজির কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে তিন হাজার কৃষককে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বৃষ্টির ফলে শীতকালীন সবজি চাষ ১৫-২০ দিন পেছাবে। কৃষকদের ক্ষতি পোষাতে উপসহকারী কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।

সবজির জন্য প্রসিদ্ধ নরসিংদী জেলায় কয়েক দফায় টানা বৃষ্টির কারণে ভরা মৌসুমেও উৎপাদন কম। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারগুলোতে। ফলে সব ধরনের সবজির দাম বেশ ঊর্ধ্বমুখী। গতকাল শনিবার জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
চাষিরা বলছেন, বেশ কয়েকবার টানা বৃষ্টির কারণে সবজির খেত নষ্ট হওয়ায় উৎপাদন কমেছে। এতে খরচ ওঠাতেই হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। বেশি দামে কিনে অল্প লাভে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। এদিকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাজারে সবজি আনামাত্র বিক্রি হচ্ছে।
সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, চড়া দামে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট অন্তহীন। সবজির দাম কবে কমবে, তা-ও জানেন না তাঁরা। কম সরবরাহের সুযোগে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে রাতারাতি সবজির দাম বাড়াচ্ছেন বলে দাবি তাঁদের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় টানা বৃষ্টিতে ৫ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজি নষ্ট হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তারা। জেলার শিবপুর, রায়পুরা ও বেলাবতে সমতল ও উঁচু জমিতে সারা বছর সবজির চাষ হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে ১০ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ এবং ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬৬ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আগাম চাষাবাদ হয়েছে। অন্যদিকে কৃষক পর্যায়ে ২০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা আছে, যা থেকে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, নরসিংদীর উৎপাদিত সবজি রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে।দাম বাড়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে পাইকারি হাট রাধাগঞ্জ, শিবপুর, বারৈচা ও নারায়ণপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন। কিন্তু উৎপাদন কম ও চাহিদা বেশি থাকায় সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী।
ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, পাইকারি ও খুচরা বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বেশ চড়া। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শসা ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৭৫ থেকে ৯০, কাঁকরোল ৭৫ থেকে ৮০, করলা ৯০, উচ্ছে ৮০, ঝিঙে ৭০, ঢ্যাঁড়স ৮০, লাউ ৬০ থেকে ৭০, ধুন্দুল ৫০ থেকে ৬০, পটোল ৭০, বরবটি ৭০, কচুর মুখি ৬০, আমড়া ৩০ থেকে ৩৫, জলপাই ৩০ থেকে ৩৫, মরিচ ৩২০ থেকে ৩৫০, চিচিঙ্গা ৭৫, পেঁপে ২৮ থেকে ৩০, আলু ৫৫, পেঁয়াজ ১০০, রসুন ২১০, প্রতিটি জাম্বুরা ২০ থেকে ২৫, প্রতি আঁটি লালশাক ১০, পুঁইশাক ২০, লাউশাক ২০ এবং লতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু ৬৫ টাকা, বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, পেঁয়াজ ১১০, চিচিঙ্গা ৮০, ধুন্দুল ৭০, পটোল ৮০, ঢ্যাঁড়স ৮০, কাঁকরোল ৯০, কাঁচা মরিচ ৪২০, টমেটো পাকা ২৩০, প্রতিটি লেবু মাঝারি ৫ থেকে ১০ টাকা, মিস্টিকুমড়া ৬৫ থেকে ৮০, লতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা আঁটি এবং ডাঁটা ও পুঁইশাক প্রতি আঁটি ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রায়পুরা উপজেলার নয়াচর গ্রামের কৃষক মজিবর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর শীতকালীন সবজি চাষ করি। গত বছর তিন বিঘা জমিতে সবজি চাষ করে খরচ বাদে লাভ হয়েছিল ৪ লাখ টাকা। এবারও লাভের আশায় ফুলকপি, বাঁধাকপি টমেটোসহ শীতকালীন সবজি
চাষের জন্য প্রায় তিন বিঘা জমি প্রস্তুত করেছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সব ভেস্তে গেছে।’
উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুরা গ্রামের কৃষক দানিছ মিয়া বলেন, ‘তিন বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করি। চাষাবাদে খরচ হয় ৬৫ হাজার টাকা। টানা বৃষ্টিতে সব গাছের গোড়ায় পচন ধরে নষ্ট হয়ে গেছে।’ কৃষক আব্দুল মালেক, শ্যামল, কাওছারের মতো অনেকের দাবি, ফসল উৎপাদনে খরচ বেড়েছে। কৃষি যন্ত্রপাতি, ডিজেল, সার ও কীটনাশকের দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সার্বিক বিষয়ে নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আজিজুল রহমান বলেন, টানা বৃষ্টিতে সবজির কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে তিন হাজার কৃষককে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বৃষ্টির ফলে শীতকালীন সবজি চাষ ১৫-২০ দিন পেছাবে। কৃষকদের ক্ষতি পোষাতে উপসহকারী কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।

সুনামগঞ্জের প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৩ আসন। এই আসনে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাইকালে ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। আর প্রার্থীরা প্রবাসী স্ত্রী, ভাই, বোন ও ছেলের টাকায় নির্বাচনী ব্যয় মেটাবেন বলে
৩ ঘণ্টা আগে
সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে বরগুনা-১ আসন এবং বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী নিয়ে গঠিত বরগুনা-২ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন দুটিতে মোট বৈধ প্রার্থী ১৮ জন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কোনো প্রার্থীরই বার্ষিক আয় ১ কোটি টাকা নেই।
৩ ঘণ্টা আগে
পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি। এবারই প্রথম তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সম্প্রতি তিনি আজকের পত্রিকার পাবনা প্রতিনিধি শাহীন রহমানের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
৩ ঘণ্টা আগে
দেশে এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট শিগগির অবসানের কোনো আভাস নেই। জ্বালানি মন্ত্রণালয় পর্যাপ্ত মজুতের কথা বললেও এলপি গ্যাস আমদানিকারকেরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁরা বলছেন, সরবরাহ সংকটই এই অবস্থার কারণ।
৩ ঘণ্টা আগে