Ajker Patrika

১৫ দিনে ৭ জনকে হুমকি, একজনকে মারধর—তাঁদের টার্গেটই ছিল চিকিৎসক

  • জড়িত চারজন গ্রেপ্তার
  • দুজন রিমান্ডে
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
১৫ দিনে ৭ জনকে হুমকি, একজনকে মারধর—তাঁদের টার্গেটই ছিল চিকিৎসক
প্রতীকী ছবি। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

ঢাকায় দুই চিকিৎসককে টার্গেট করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিল একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। চাঁদা না পেয়ে দুজনের ওপর হামলা চালায় তাঁরা। এতে দুই চিকিৎসক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁদের মধ্যে দুজন ৫ দিন করে রিমান্ডে রয়েছে। বাকিদের আগামীকাল সোমবার আদালতে নেওয়া হবে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সানি শাহ, ফারহান শাহরিয়ার ওরফে ইভান, অ্যাশ ও জীবন ওরফে আদিল। এদের মধ্যে ইভানের ও জীবনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর। সানির বাড়ি গাজীপুর এবং অ্যাশের বাড়ি যাত্রাবাড়ীর ধনিয়া এলাকায়।

তাঁদের সবাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গত ১৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর শান্তিনগরে পপুলার ডায়াগনস্টিকের সামনে সন্ত্রাসীরা অটোরিকশা থামিয়ে ডা. আসাদুর রহমানকে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার পরের দিন তিনি বাদী হয়ে এই ঘটনায় পল্টন থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুজ্জামান আতিক বলেন, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে। তার মধ্যে জীবনকে ঘটনার দিন পথচারীরা আটক করে পুলিশে দেয়। বাকিদের ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

জীবনকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ৫ দিনের রিমান্ড দেয় আদালত। ইভানকে শনিবার আদালতে নিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চান তদন্ত কর্মকর্তা, শুনানি শেষে তাঁকেও ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড-নেক (ইএনটি) সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান দুই মাস যাবৎ পল্টন মডেল থানাধীন শান্তিনগর এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বারে নিয়মিত রোগী দেখেন। গত ১৭ আগস্ট রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে চেম্বার শেষে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে সিএনজিতে ওঠা মাত্রই ফারহান শাহরিয়ার ওরফে ইভানসহ কয়েকজন সিএনজিটির পথরোধ করে। পরে সিএনজি থেকে ওই চিকিৎসককে জোর করে নামিয়ে দেন।  

এ সময় জীবন ওরফে আদিল নামের একজন ওই চিকিৎসকের চোখে ঘুষি মারেন। পরে জীবনের সঙ্গে থাকা অন্যরাও তাঁকে মারধর করেন। পরে আশপাশের লোকেরা এগিয়ে এলে তাঁরা পালিয়ে যান। 

ডিবির তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রুপটি সাম্প্রতিক সময় সংঘটিত হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে এর আগে বড় কোনো অপরাধের তথ্য পাওয়া যায়নি। মামলাও নেই। এই গ্রুপের দলনেতা সানি শাহ। সে দীর্ঘদিন বাইরে ছিল। এক সময় হুন্ডির ব্যবসা করত। এই ব্যবসায় লস খেয়ে অপরাধে জড়ায়। সে সনাতন ধর্মের হলেও এক মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করায় পরিবার থেকে বিতাড়িত। তাঁর নেতৃত্বেই এই সন্ত্রাসী গ্রুপটি গড়ে ওঠে। চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের নামে তাঁরা পেশাজীবীদের টার্গেট করে চাঁদাবাজি শুরু করেছিল। এ জন্য ঢাকার বিভিন্ন বড় চিকিৎসকদের টার্গেট করেছিল। তাঁদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপে দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে চাঁদা চেয়ে বার্তা পাঠাত। চক্রটি প্রথমে গত ২৭ জুলাই আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক আমিনুল হকের কাছে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি করে হুমকি দেয়। তিনি এই ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তবে হুমকির পর তিনি তাঁদের কোনো টাকা পয়সা দেননি। এরপর সন্ত্রাসীরা কয়েকবার ওই হাসপাতালের সামনে গিয়ে তাঁকে অনুসরণ করে। সেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সেখান থেকে তাদের কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়। চক্রটি এ পর্যন্ত ৭/৮ জন চিকিৎসক ও পেশাজীবীকে চাঁদার জন্য হুমকি দিয়েছে, এর মধ্যে একজনকে মারধর করেছে।

এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যাঁরা অধ্যাপক আমিনুল হককে হুমকি দিয়েছিল, সেই চক্রটিই গত ১৭ আগস্ট রাতে শান্তিনগরে অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলা চালায়। তাঁরা একই গ্রুপের।’ তিনি আরও বলেন, ‘চক্রটি চিকিৎসকদের টার্গেট করে চাঁদাবাজির চেষ্টা করছিল। তাঁরা চিকিৎসকদের মধ্যে একটা ভীতির সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল। তবে তার আগেই তাঁরা ধরা পরে যায়।’

এদিকে শনিবার ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অধ্যাপক আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, হামলার ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ মূল হোতাকে ধরতে পেরেছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সে বিদেশে হুন্ডির ব্যবসা করত, লস দিয়েছে। এখন কিছু সন্ত্রাসীকে একত্র করে একটা সংগঠন করেছে। তাঁরা ধনাঢ্য ব্যক্তি, পেশাজীবী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এমন বড় বড় ব্যক্তিদের টার্গেট করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, এগুলো নির্মূল হয়ে যাবে। আমরা শুধু চাঁদাবাজদের তালিকা করছি না। চাঁদাবাজদের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে তাদেরও তালিকা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত