Ajker Patrika

ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মাঞ্জিল অষ্টম দফায় রিমান্ডে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মাঞ্জিল অষ্টম দফায় রিমান্ডে
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা (চাকরিচ্যুত) মেজর (অব.) মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা (চাকরিচ্যুত) মেজর (অব.) মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে (৪৮) আবারও ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকার আদাবর এলাকায় পোশাক শ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় রিমান্ড দেন আদালত। গ্রেপ্তারের পর থেকে এ নিয়ে তিনটি মামলায় তাঁকে অষ্টম দফায় রিমান্ডে নেওয়া হলো।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এ আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।

গত ৩ মে এ মামলায় তাকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. টিপু সুলতান আবারও ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শেষ দিন অর্থাৎ ৫ আগস্ট রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা বেলা ১১টার দিকে আদাবরের রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ, মৎস্যজীবী লীগের নেতা–কর্মীরা গুলি চালায়। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হন। নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গত বছরের ২২ আগস্ট রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম আদাবর থানায় মামলা দায়ের করেন।

আজ পুনরায় রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মাঞ্জিল হায়দার ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পলাতক সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকির ঘনিষ্ঠজন হওয়ার সুবাদে তাদের আলোচনা ও পরামর্শে সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে পেশাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা যায়। তার ধারাবাহিকতায় ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তাদের নির্দেশনায় সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার সব সহযোগী অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য এবং সরকারকে অস্থিতিশীল করা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার সব সহযোগী অঙ্গসংগঠনকে নিয়ে ঢাকা শহরে বিভিন্ন এলাকায় ষড়যন্ত্র করে। তাদেরকে প্রয়োজনীয় অর্থ ও কু-মন্ত্রণা দিতেন বলে জানা যায়। মামলার পলাতক আসামিদের সঙ্গে মাঞ্জিল হায়দারের যোগাযোগ অব্যাহত আছে বলে তদন্তকালে জানা যায়। মামলার অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের সঠিক নাম-ঠিকানা জেনে পলাতকদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তাকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, গত ৯ এপ্রিল মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাঞ্জিল হায়দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহতের ঘটনায় নিউ মার্কেট থানার মামলায় পরের দিন তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। ওয়াদুদ হত্যা মামলায় আবার দুই দফা রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলা ও চলমান শ্রমিক রুবেল হত্যা মামলাসহ তাঁকে ৮ দফা রিমান্ডে নেওয়া হলো।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত