Ajker Patrika

ডিটিসিএর পরিকল্পনা: ব্যাংকের কার্ডেই মিলবে র‍্যাপিড পাসের সুবিধা

  • এক কার্ডেই ব্যাংকিং, মেট্রো-বাসের ভাড়া
  • চুক্তি হয়ে গেলে ডিসেম্বরেই চালুর লক্ষ্য
  • আলাদা র‍্যাপিড পাস ও রিচার্জ লাগবে না
তৌফিকুল ইসলাম, ঢাকা 
ডিটিসিএর পরিকল্পনা: ব্যাংকের কার্ডেই মিলবে 
র‍্যাপিড পাসের সুবিধা

ব্যাংকের কার্ডে গণপরিবহনে ব্যবহৃত র‍্যাপিড পাসের সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এটি বাস্তবায়িত হলে একটি কার্ড দিয়েই ব্যাংকিং লেনদেনের পাশাপাশি মেট্রোরেল ও নির্ধারিত বাসের ভাড়া পরিশোধ করা যাবে। তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলী এবং মেট্রোর যাত্রীরা বিষয়টিকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি গ্রাহকের ব্যাংকের আমানত ও এর তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন।

বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকের ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে টাকা তোলা, কেনাকাটা ও বিভিন্ন সেবার মূল্য পরিশোধ করা যায়। এবার এসব ব্যাংক কার্ডে র‍্যাপিড পাসের সুবিধা যুক্ত করা হবে। এ জন্য একই কার্ডে ব্যাংকের প্রচলিত চিপের পাশাপাশি র‍্যাপিড পাসের জন্য আলাদা চিপ যুক্ত করা হবে।

ডিটিসিএ সূত্র জানিয়েছে, এ সেবা চালুর বিষয়ে প্রথম সারির ৮ থেকে ১০টি ব্যাংক তাদের কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ডিটিসিএর চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর গ্রাহকদের জন্য এ ধরনের কার্ড চালু করা হবে।

ডিটিসিএ কর্মকর্তারা জানান, যেসব গণপরিবহন ব্যবহারকারী এ সুবিধা নিতে চায়, তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে হিসাব থাকতে হবে। গ্রাহক নিজের ব্যাংকের কাছে র‍্যাপিড পাস সুবিধাসহ কার্ডের আবেদন করলে ব্যাংক তা ইস্যু করবে। নতুন কার্ডে ব্যাংকের চিপ ও র‍্যাপিড পাসের চিপ আলাদা থাকবে। ফলে কার্ডটি মেট্রোরেল বা বাসে র‍্যাপিড পাস হিসেবে ব্যবহারের সময় ব্যাংকের তথ্যের সঙ্গে এর কোনো সংযোগ থাকবে না।

বর্তমানে র‍্যাপিড পাস ব্যবহার করতে কার্ডে টাকা ভরে রাখতে বা রিচার্জ করতে হয়। নতুন ব্যবস্থায় গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ দিয়েই গণপরিবহনের ভাড়া পরিশোধ করা যাবে।

বর্তমানে মেট্রোরেল এবং রাজধানীর একটিমাত্র বাসরুট হাতিরঝিল চক্রাকার বাসে র‍্যাপিড পাস ব্যবহার করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এ বিষয়ে একটি ডেমোনস্ট্রেশন (হাতে-কলমে দেখানো) করা হবে। এরপর চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই সেবাটি চালু করা সম্ভব হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. বি এম মইনুল হোসেন বলেন, এটি ভালো একটি উদ্যোগ। পেমেন্টের বিকল্প বাড়বে। তবে এ ক্ষেত্রে কার্ডের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। র‍্যাপিড কার্ডে সাধারণত সীমিত পরিমাণ অর্থ থাকে, কিন্তু ব্যাংকের কার্ডে তুলনামূলক বড় অঙ্কের লেনদেনের সক্ষমতা থাকে। কার্ডের তথ্য সুরক্ষা ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে।

মেট্রোরেলে শেওড়াপাড়া থেকে নিয়মিত মতিঝিলে যাতায়াত করা রুবায়েত ইসলাম বলেন, এক কার্ডেই ব্যাংকিং ও মেট্রোরেলের ভাড়া পরিশোধ করা গেলে রিচার্জের ঝামেলা থাকবে না, সময় বাঁচবে। তবে ব্যাংকের টাকা ও কার্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, আলাদা আলাদা কার্ড ও ভিন্ন ভিন্ন পেমেন্ট ব্যবস্থা রাখা আধুনিক গণপরিবহনব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ব্যাংকিং, মেট্রোরেল, বাসসহ বিভিন্ন সেবার পেমেন্ট ব্যবস্থা যতটা সম্ভব একটি কার্ড বা একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা উচিত। ঢাকার সব গণপরিবহনের জন্য একটি সমন্বিত পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বেশি কার্যকর হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত