মেট্রোরেলের দুই লাইনের ৪ প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি সই

রাজধানীতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫-এর চারটি নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি সই হয়েছে। এসব প্যাকেজের আওতায় ডিপো, উড়াল রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে।
এর মধ্যে এমআরটি লাইন-১-এর আওতায় পাঁচ কিলোমিটারের বেশি উড়াল রেলপথ ও তিনটি স্টেশন এবং এমআরটি লাইন-৫-এর আওতায় ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ ও পাঁচটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে এসব চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-১-এর ডিপো নির্মাণের জন্য সিপি-২ প্যাকেজের কাজ পেয়েছে সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল জেভি। এ প্যাকেজের আওতায় ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড, অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ৪৯টি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।
এমআরটি লাইন-১-এর সিপি-৭ প্যাকেজের আওতায় পাতাল রেল থেকে উড়াল রেলপথে ওঠার স্থান থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুল স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জেভির সঙ্গে।
অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুটের ডিপো নির্মাণের কাজ পেয়েছে সিপিসি-হানিল জেভি। সিপি-২ প্যাকেজের আওতায় প্রশাসনিক ভবন, স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, গুদাম ও ওয়ার্কশপ শেডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
এমআরটি লাইন-৫-এর সিপি-৩ প্যাকেজের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিন বাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিন বাজার ও ভাটারা স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ প্যাকেজের কাজও পেয়েছে সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জেভি।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট কমানো ও যাতায়াতের সময় বাঁচানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
জিয়াউল বলেন, নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা যাবে না। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি দীর্ঘায়িত না হয়।
নির্মাণকাজের পরিবেশগত প্রভাব ও প্রকল্প এলাকার আশপাশে বসবাসকারী মানুষের কল্যাণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন সড়কসচিব।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকের উপস্থিতিতে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলমসহ জাপান দূতাবাস, জাইকা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।









