
রাজধানীর দরিদ্র শ্রমজীবীদের তিন বড় আবাসস্থল কড়াইল, ভাষানটেক ও সাততলা বস্তির বাসিন্দাদের জন্য সমন্বিত পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে কয়েক হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটিকে সার্বিকভাবে স্বাগত জানালেও বর্তমান বাসিন্দাদের প্রকল্পকালীন সাময়িক আবাসনের ব্যবস্থা এবং পরে প্রকৃত বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট পাওয়া নিশ্চিত করতে সতর্ক করে দিয়েছেন নগর বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টরা।
ডিএনসিসি সূত্র বলছে, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির জন্য ৯ জুন চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসানকে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সৈয়দ রাকিবুল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বস্তিবাসীর জন্য মানসম্মত আবাসন তৈরি করা হবে। এর অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। শুধু বহুতল ভবন নয়, এই প্রকল্পের আওতায় সংশ্লিষ্ট বস্তিবাসীর সব নাগরিক সুবিধাও নিশ্চিত করা হবে।’
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে কড়াইল, ভাষানটেক ও সাততলা বস্তিকে নিয়ে একটি সমন্বিত আবাসনের মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। তবে প্রকল্পের নকশা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নকাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সংসদ নির্বাচনের কিছু আগে গত জানুয়ারিতে বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে আয়োজিত বিএনপির এক জনসভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘কড়াইলবাসীর থাকার কষ্ট দূর করতে বহুতল ভবন নির্মাণ করে ছোট ছোট ফ্ল্যাট বানিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া সমাধান করা হবে বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ নাগরিক সব সমস্যা।’
এর আগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আটকেপড়া পাকিস্তানিদের পুনর্বাসনের জন্য ডিএনসিসির পক্ষ থেকে প্রকল্প নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।
সম্প্রতি ডিএনসিসির প্রধান কার্যালয়ে প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক বস্তির বাসিন্দাদের নাগরিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডিএনসিসি প্রশাসক এতে বলেন, বস্তি এলাকার বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এটি আধুনিক নগর ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
সভায় জানানো হয়, তিনটি বস্তির স্থানে আধুনিক আবাসনের ব্যবস্থা করতে সেখানকার বর্তমান প্রকৃত বাসিন্দা শনাক্ত করা এবং জমির মালিকানা ও দখলসহ আইনগত অবস্থা স্পষ্ট করা জরুরি। বেসরকারি সংগঠন দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের (ডিএসকে) মাধ্যমে সাততলা, কড়াইল ও ভাষানটেক বস্তির বাসিন্দাদের একটি বৈধ ও হালনাগাদ তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।
জানতে চাইলে ডিএসকের উপপরিচালক অখিল চন্দ্র দাস আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া জরিপে প্রায় ৩৫ হাজার পরিবারের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব পরিবারের মোট সদস্যসংখ্যা আনুমানিক দেড় লাখ। আশা করছি, জুনের মধ্যে জরিপ কাজ শেষ হবে।’
অখিল চন্দ্র দাস বলেন, জরিপে বস্তিবাসীর তালিকায় রাখা হয়েছে জায়গার দখলদার ও ভাড়াটে পরিবারগুলোকে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তিন বস্তির বাসিন্দাদের জন্য কেমন আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। তারেক রহমান জনসভায় বহুতল ভবনে ছোট ছোট ফ্ল্যাট বানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন। এতে কেমন ব্যয় হতে পারে, তা নিয়ে বিভিন্ন মত পাওয়া গেছে।
কম খরচে পাকা আবাসন তৈরির সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিশেষজ্ঞ বলছেন, সাশ্রয়ীভাবে ছোট ফ্ল্যাট তৈরি করতে প্রতিটিতে খরচ হতে পারে অন্তত ১৫ লাখ টাকা। এই মূল্য ধরে কমপক্ষে ৩৫ হাজার পরিবারের জন্য ফ্ল্যাট তৈরিতে খরচ হবে ৫ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। রাস্তা, খেলার মাঠসহ অন্য নাগরিক সুবিধা ও আনুষঙ্গিক খরচ যোগ করলে প্রকল্প ব্যয় আরও বাড়বে।
অন্যদিকে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাক আজকের পত্রিকার প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, ঢাকায় জমি ছাড়াই দশতলা ভবনে ১ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট তৈরিতে খরচ হবে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। আর ২০ তলা ভবন হলে ৪০ লাখ টাকা খরচ হবে। আবদুর রাজ্জাকের মতে, সরকার যদি ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করায় তাহলে আরও ২৫ শতাংশ টাকা যোগ হবে। সরকার কেমন নকশায় ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে তার ওপর ব্যয় নির্ভর করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ভাষানটেক, কড়াইল ও সাততলা বস্তি এলাকায় জমি দখল করে ভাড়া বাণিজ্য করে আসছে। বস্তির জায়গাগুলোর মালিকানা সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। ডিএনসিসি সূত্র বলছে, সিটি জরিপ ও জায়গার খতিয়ান অনুসারে, সাততলা বস্তির জমির মালিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও মহাখালীর বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট হাসপাতাল। কড়াইল বস্তির জমির মালিক মূলত ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া এখানে কিছু অংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন। আর ভাষানটেক বস্তির জায়গার মালিকানায় রয়েছে পূর্ত ও নগর উন্নয়ন বিভাগ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা জেলা প্রশাসন।
প্রকল্প নির্মাণের সময় বস্তিবাসীর আবাসনের ব্যবস্থার প্রশ্নটি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বহুতল ভবন নির্মাণে অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে। এ সময়ে বস্তিবাসীরা কোথায় থাকবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ছাড়া এর অর্থায়ন কোন কর্তৃপক্ষ করবে এবং কোন মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, তা-ও এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বস্তিবাসীর বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘প্রকল্প চলাকালীন অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। পরে সুবিধাভোগীদের তালিকায় হয়তো দেখা যাবে ৭০ ভাগই নকল বস্তিবাসী।’
বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রকল্পের স্বচ্ছতা রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ—এ মন্তব্য করে আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘ভুয়া লোকজন যেন সুবিধা না পায়।’
আরেকটি বাস্তব দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ নগরবিদ বলেন, ‘আধুনিক বহুতল ভবনে বসবাস যেহেতু ব্যয়বহুল হবে, তা বস্তিবাসীর আয়ের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ সেটাও দেখতে হবে।’

বগুড়ার বেসরকারি চিকিৎসা খাত চলছে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ইতিমধ্যে ৭৬টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হলেও পরে ভিন্ন নামে আবারও চালু করা হয়েছে। তবে এর বাইরে রয়েছে আরও শতাধিক অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান। অনেক প্রতিষ্ঠানের নেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রশিক্ষিত জনবল ও নিরাপদ চিকিৎসাব্যবস্থা।
১ ঘণ্টা আগে
সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে টানা ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সরকার। নিষেধাজ্ঞা শেষে ১১ জুন মধ্যরাত থেকে উপকূলীয় জেলা বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার প্রায় ৪০ হাজার জেলে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান।
২ ঘণ্টা আগে
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় ১৩ মাস আগে জব্দ করা ১৮৩ বস্তা চাল অভিযুক্ত চাল ব্যবসায়ী বাপ্পি কুণ্ডুকে দিয়ে দিল খাদ্য বিভাগ। গত সোমবার দুপুরে ওসিএলএসডি কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে বাপ্পি কুণ্ডুর হাতে চালের বস্তাগুলো তুলে দেন উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার সিংহ এবং গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা...
২ ঘণ্টা আগে
বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পেরিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে ফুলে ফুলে সজ্জিত একটি ঘোড়ার গাড়ি। গাড়িতে বসে আছেন সদ্য অবসরে যাওয়া সেনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার মণ্ডল। দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থী, সহকর্মী, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
২ ঘণ্টা আগে