Ajker Patrika

প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিদিশা কারাগারে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিদিশা কারাগারে
বিদিশা সিদ্দিক। ফাইল ছবি

প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিকেলে বিদিশাকে আদালতে হাজির করে গুলশান থানা–পুলিশ। তাঁর পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী আতিকুর রহমান। আপিলের শর্তে জামিন চাওয়া হয়। আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এই মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন হিরণ কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ২৫ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায়ে বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। জরিমানার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে বিদিশাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়।

রায়ের দিন বিদিশা অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

ওই সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলশান-২ নম্বরের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারার একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলায় আরও বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত (ডিসঅনার) হয়।

বাদীর অভিযোগ, এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

মামলায় দাবি করা হয়, বিদিশা বাদীকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

মামলার নথি থেকে দেখা যায়, এই মামলায় জামিন নিয়েছিলেন বিদিশা। পরবর্তীতে মামলা বাতিলের জন্য তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। পরবর্তীতে স্থগিত আদেশ বাতিল হয়। এরপর আর মামলায় হাজির হননি তিনি। পলাতক হিসেবে তাঁর বিচার হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত