Ajker Patrika

চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ, যুবককে কোপানোর ১১ দিন পর মৃত্যু

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 
চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ, যুবককে কোপানোর ১১ দিন পর মৃত্যু
নিহত বিল্লাল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত বিল্লাল হোসেন (২৬) ১১ দিন পর মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। আজ বিকেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।

বিল্লাল হোসেন উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ত্রি-হুইলার চালক ছিলেন।

‎নিহত বিল্লালের চাচা মো. জহির জানায়, গত ২৪ জুলাই চলাচলের রাস্তায় প্রতিবেশী জয়নাল আবেদীন ও তাঁর ছেলেরা বাঁশের খুঁটি দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পরে বাড়ির লোকজন বেড়া সরাতে গেলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেনের দায়ের কোপে গুরুতর আহত হয় বিল্লাল হোসেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

বিল্লাল হোসেনের বাবা আবদুল হামিদ বলেন, ‘চলাচলের রাস্তার বেড়া সরাতে গেলে আমার ছেলের মাথায় মোজাম্মেল দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ছেলেটাকে হারাই। আমি খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার চাই।’

‎‎অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেনের মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘ঝগড়ার সময় আমার ছেলে হাতে মোবাইল ছাড়া অন্য কিছুই ছিল না। আমার স্বামী এবং ছেলেরা তাঁদের ১২-১৩ জন লোকের হাতে মার খেয়েছে।’

‎মোজাম্মেলের চাচা আবদুল হানিফ বলেন, ‘চলাচলের জন্য আমার বড় ভাই তাঁর বাড়ির সামনের দিক দিয়ে আরও একটি রাস্তা দেয়। সমাজের বিচারকদের সিদ্ধান্তে বাড়ির পেছনের রাস্তাটি বন্ধ করে দিতে গেলে ঝগড়ার সৃষ্টি ও দুপক্ষের সংঘর্ষ ঘটে।’

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, ‘রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আহত যুবক বিল্লাল হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ দিন পর মারা গেছেন। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বাবা আবদুল হামিদ বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত