Ajker Patrika

কুমিল্লায় বিধবার ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 
কুমিল্লায় বিধবার ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল
বিধবার ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধে আদালতে মামলা করায় এক বিধবার বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ৩ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বেলঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের মিতল্লা গ্রামে মরহুম আবদুস সাত্তারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েক ব্যক্তি বসতঘরের টিনের বেড়া খুলে রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখছেন। এ সময় বিধবা পেয়ারা বেগম ও তাঁর ছেলেরা কান্নাকাটি করে ঘর ভাঙচুর বন্ধের অনুরোধ করছেন এবং আশপাশের লোকজনকে ঘটনাটি দেখতে ডাকছেন।

পুলিশ, ভূমি অফিস ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মিতল্লা গ্রামের মরহুম আবদুস সাত্তারের স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৬০) তাঁর তিন ছেলে শহিদুল ইসলাম, সুজন ও ইসমাইলকে নিয়ে স্বামীর বসতভিটায় বসবাস করে আসছেন। কিছুদিন আগে আবদুস সাত্তারের একটি খালি ভিটি জমি তাঁর ভাই আবদুল মান্নান জোরপূর্বক দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ করেন পেয়ারা বেগম। এ ঘটনায় তিনি কুমিল্লার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা করেন।

আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় লালমাই উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি)। তদন্তের অংশ হিসেবে দুই সপ্তাহ আগে লালমাই থানার এএসআই নজরুল ইসলাম উভয়পক্ষকে শান্তি ভঙ্গ না করার নোটিশ দেন।

মঙ্গলবার উপজেলা সার্ভেয়ার আবু হানিফ সরেজমিনে তদন্ত শেষে ফিরে গেলে, অভিযোগ অনুযায়ী, আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে তাঁর ভাই আবুল কালাম ও আবু তাহেরসহ কয়েকজন গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে পেয়ারা বেগমের বসতঘর ভেঙে ফেলা হয়।

ভুক্তভোগী পেয়ারা বেগম বলেন, দেবর আবদুল মান্নান আমার স্বামীর রেখে যাওয়া জমি দখল করে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। তাই আদালতে মামলা করেছি। তদন্ত শেষে কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর তারা আমাদের বসতঘর ভেঙে দেয়। এ সময় আমার ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, ছেলের একটি মোবাইল ফোন এবং কিছু নগদ টাকা নিয়ে যায়। আমরা অনেক অনুরোধ করলেও তারা ঘর ভাঙা বন্ধ করেনি।

লালমাই থানার এএসআই নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ১৪৫ ধারার মামলার নোটিশ উভয় পক্ষকে দিয়েছি, যাতে কেউ শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করে। পরে কীভাবে ঘর ভাঙচুর হয়েছে, সেটি আমার দায়িত্বের বিষয় নয়।’

ভুশ্চি বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, ঘর ভাঙচুরের ভিডিও দেখে ওসির নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল মান্নানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত