Ajker Patrika

বাকেরগঞ্জ: খাল দখল করে বহুতল ভবন, মানা হয়নি নকশা

  • উপজেলা প্রশাসন নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বললেও শোনেনি মালিকপক্ষ।
  • পাঁচতলার অনুমোদন নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে সাড়ে পাঁচতলা ভবন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বাকেরগঞ্জ: খাল দখল করে বহুতল ভবন, মানা হয়নি নকশা
বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডসংলগ্ন শ্রীমন্ত খালের একাংশ দখল করে নির্মিত বহুতল ভবন। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার একসময়ের খরস্রোতা শ্রীমন্ত নদ খালে পরিণত হয়েছে। সেই খালের একটি অংশ দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন। যেখানে পরিচালনা করা হবে ক্লিনিকের কার্যক্রম। এমনকি পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাঁচতলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হলেও ভবনটি এরই মধ্যে অবৈধভাবে সাড়ে পাঁচতলা নির্মাণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে বরিশাল-বরগুনা মহাসড়কসংলগ্ন শ্রীমন্ত খালের একাংশ দখল করে ক্লিনিকের জন্য প্রায় তিন শতক জমির ওপর সাড়ে পাঁচতলা বহুতল ভবন নির্মাণ করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বাকেরগঞ্জের তুলাতলী ও বিষখালী নদীকে সংযুক্ত করা শ্রীমন্ত নদ বর্তমানে খাল হিসেবে পরিচিত। যদিও এটি ছিল খরস্রোতা বহমান নদ। প্রভাবশালীদের দখলে ধীরে ধীরে শ্রীমন্ত তার চেনা রূপ হারিয়ে খালে পরিণত হয়েছে। সেই খালও দখল আর দূষণের কবলে পড়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। এভাবে দখল হতে থাকলে একসময় খালটিও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে বরিশাল-বরগুনা মহাসড়কসংলগ্ন শ্রীমন্ত খাল দখল করে প্রায় তিন শতক জমির ওপর পাঁচতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তৎকালীন পৌর প্রশাসক রুমানা আফরোজ ও প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন খালের পাড় দখল করা বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিলেন। শুরু থেকেই শ্রীমন্ত খাল দখলের অভিযোগ ওঠে ভবনমালিকদের বিরুদ্ধে।

এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানান, প্রথমে ভবনটির চারতলার ভিত্তি দেখিয়ে এক তলার কাজ সম্পন্ন করা হয়। এখন সেখানে সাড়ে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। খালের পাড়ে প্রয়োজনীয় পাইলিং ছাড়া এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভবনটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ভবনের একাংশ খালের জমিতে পড়েছে। আশপাশের বাসিন্দারা জানান, নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই খালের জায়গা সংকুচিত হয়েছে।

এ বিষয়ে ভবনের মালিক নয়ন মোল্লা বলেন, ‘আমরা ৩০ বছরের চুক্তিতে তিন শতক জমি ভাড়া দিয়েছি। চুক্তির ভিত্তিতে প্রায় ২৫০ জন মিলে ক্লিনিকের জন্য ভবন নির্মাণ করেছেন। যাঁরা জায়গাটি ভাড়া নিয়েছেন, তাঁরাই নির্মাণকাজ করছেন। আমরা শুধু তদারকি করছি। তবে খাল দখলের অভিযোগ সঠিক নয়।’

বাকেরগঞ্জ পৌরসভার উপপ্রকৌশলী কামরুল হাসান খান বলেন, ‘ভবনটির পাঁচতলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ সাড়ে পাঁচতলা নির্মাণ করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া খালের একাংশ দখলের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।’

বাকেরগঞ্জ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন মির বলেন, ‘নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ না করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তন্ময় হালদার বলেন, ‘শ্রীমন্ত খাল দখলের অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে ভবনের একাংশ খালের মধ্যে পড়ার বিষয়টি সামনে আসে। এ কারণে আমরা ভবনের নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছি। যদিও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ভবনের কাজ চলছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত