মদ্যপানে ছাত্রদল নেতাসহ দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪

কুমিল্লার দেবিদ্বারে মদ্যপানে অসুস্থ হয়ে ছাত্রদল নেতাসহ দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চার যুবক অসুস্থ হয়ে ঢাকা ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত শুক্রবার দেবিদ্বার পৌরসভার গুনাইঘর উত্তরপাড়ার ধান্নারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মৃত দুজন হলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য ও ধান্নারপাড় ভূঁইয়া বাড়ির বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. সালাউদ্দিন (৩২) ও দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়নের হাপুড়খাড়া গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে মো. বাসার খান (৩০)।
চিকিৎসাধীন চার যুবক হলেন গুনাইঘর ধান্নারপাড় গ্রামের মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে আতিক (৩২), আব্দুল হাকিমের ছেলে শাহীন শাহ (২৮), মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ নাঈম (২৮) ও উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের আরও এক যুবক।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর সালাউদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘরে বমি করছেন—এমন খবর পেয়ে দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করেন আশপাশের লোকজন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে গত শনিবার তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, বাসার খানের মৃত্যুর বিষয়ে দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়নের হাপুড়খাড়া গ্রামের এক ব্যক্তি জানান, বাসার খান তাঁর মামার বাড়িতে মামাতো ভাই নাঈম ও তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপানের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনেরা প্রথমে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে কুমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে গত রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। ময়নাতদন্ত ছাড়াই দুই যুবকের মরদেহ দাফন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মৃত্যুর ঘটনা সত্য। তবে এ বিষয়ে কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। দাফনের পর ঘটনাটি জানতে পেরেছি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ‘সাংবাদিকদের কাছ থেকে ঘটনাটি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত থানা-পুলিশ বলতে পারবে।’









