Ajker Patrika

রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর: উখিয়ায় লাখো রোহিঙ্গার সমাবেশ, রাখাইনে ফেরার আকুতি

কক্সবাজার প্রতিনিধি
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ২৭
রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর: উখিয়ায় লাখো রোহিঙ্গার সমাবেশ, রাখাইনে ফেরার আকুতি
উখিয়ার ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের ফুটবল মাঠে আজ সকালে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

নয় বছর ধরে আশ্রয়শিবিরের জীবন। চোখের সামনে ভেসে ওঠে পুড়ে যাওয়া ঘর, হারিয়ে যাওয়া স্বজন আর ফেলে আসা জন্মভূমির স্মৃতি। তবু প্রত্যাবাসনের অপেক্ষা শেষ হয়নি। ২০১৭ সালের গণহত্যা ও নিপীড়নের নয় বছর পূর্তিতে মঙ্গলবার কক্সবাজারের উখিয়ার আশ্রয়শিবিরে সমবেত হয়েছেন লাখো রোহিঙ্গা। নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি নিজ দেশে ফেরার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ চেয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে উখিয়ার ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের ফুটবল মাঠে ‘নাইন ইয়ারস গন, টেন মিনিটস ফর রোহিঙ্গা’ স্লোগানে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর) আয়োজিত সমাবেশে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবির থেকে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ অংশ নেন।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সামরিক বাহিনীর অভিযান, জাতিগত নিপীড়ন ও সহিংসতার স্মরণে দিনটি ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে রোহিঙ্গারা। এ উপলক্ষে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নয় বছর পেরিয়ে গেলেও ২০১৭ সালের সহিংসতার ক্ষত রোহিঙ্গাদের মন থেকে মুছে যায়নি। স্বজন হারানোর বেদনা, ঘরবাড়ি হারানোর কষ্ট এবং নিজ দেশে ফিরতে না পারার হতাশা এখনও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। তারা নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে নিজ ভিটেমাটিতে ফিরতে চান।

রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘আমরা বিশ্বের কাছে ১০ মিনিট সময় চাই। নয়টি বছর পার করেছি। এ দেশ আমাদের নয়, আমরা আমাদের দেশে ফিরতে চাই।’

ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আরকান আমাদের, আমরা আরকানের—এর চেয়ে বড় কোনো সত্য নেই। বিষয়টি মানবিক বিশ্বকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।’

ইউসিআরের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যানেলের সদস্য মোহাম্মদ সৈয়দ উল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের আশ্রয় দিয়ে যে মানবিক সহায়তা করেছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা জন্মভূমি মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চাই। প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু সীমান্ত পার করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো নয়, প্রত্যাবাসনের পর নিরাপত্তা, অধিকার, নাগরিকত্ব, চলাচলের স্বাধীনতা ও জীবিকার নিশ্চয়তাও দিতে হবে।’

রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ইউসিআর নেতা মাস্টার শোয়েব বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে এমনভাবে কাজ করতে হবে, যাতে আমরা ভয় ও অনিশ্চয়তা ছাড়াই নিজ দেশে ফিরতে পারি।’

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় থেকে প্রতিবছরের মতো এবারও সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পের কর্মসূচিতেও ২০১৭ সালের সহিংসতায় নিহতদের স্মরণ, রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির দাবি এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে, রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছরের বাস্তবতা, বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে সোমবার বিকেলে কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ সমাধান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংহতি ও সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল যৌথভাবে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। এতে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত