
কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে পর্যটন শহরে প্রবেশের জন্য রয়েছে চার লেনের দুটি সড়ক। এর মধ্যে পাহাড়ের বুক চিরে চলে গেছে দৃষ্টিনন্দন কলাতলী বাইপাস সড়ক। দেড়-দুই দশক আগেও এই সড়ক ধরে ডলফিন মোড়ে নামতেই শোনা যেত উত্তাল সাগরের গর্জন, আর চোখ জুড়িয়ে যেত নীল জলরাশির আছড়ে পড়া ঢেউ দেখে।
কিন্তু সময়ের আবর্তে সেই চিরচেনা দৃশ্যপট বদলে গিয়েছিল। সৈকতজুড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ ঝুপড়ি দোকান, অপরিকল্পিত বহুতল ভবন আর যত্রতত্র স্থাপনার ভিড়ে আড়াল হয়ে গিয়েছিল সাগরের নীল দিগন্ত। শুধু কলাতলী নয়, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টের প্রাকৃতিক পরিবেশও হারিয়ে গিয়েছিল দখলের কবলে।
তবে আশার কথা হলো, সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের ফলে বালিয়াড়ি আবার তার আদি রূপ ফিরে পেতে শুরু করেছে। ঝুপড়িমুক্ত সৈকত এখন যেন বুক ভরে নিশ্বাস নিচ্ছে, আর পর্যটকেরাও ফিরে পাচ্ছেন সেই পুরোনো দিনের মায়াবী কক্সবাজারকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ সৈকতের হারিয়ে যাওয়া সেই প্রাকৃতিক দৃশ্য ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট সৈকতের সাড়ে ৯০০ ঝুপড়ি দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ১২ মার্চ কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করে। ৯ মার্চ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় সুগন্ধা পয়েন্ট সৈকতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও পরে আবার দখল হয়ে যায়। তবে দুই দশকের মধ্যে এবারই এসব স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসনের কড়াকড়ি বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত রোববার দখলমুক্ত সৈকত পরিদর্শনে গিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় তিনি উচ্ছেদ করা বালিয়াড়িতে কোনো ধরনের স্থাপনা কিংবা দোকান বসাতে দেওয়া হবে না বলে জানান। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
২০২৫ সালে রাতারাতি বসে ৫০০ ঝুপড়ি দোকান
দুই দশক ধরে সৈকতের তীরে দোকানপাট ও স্থাপনা তৈরি হয়ে আসছে। জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির ভ্রাম্যমাণ হকারের কার্ড নিয়ে প্রভাবশালীরা সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করে আসছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সুগন্ধা, কলাতলী, লাবণী পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় বালিয়াড়ি দখলের হিড়িক পড়ে। একই বছরের ৮ ও ৯ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ঝুপড়ি দোকান উচ্ছেদ করলেও পুনরায় দখল হয়ে যায়। ২০২৫ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পাঁচ শতাধিক ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান, লকার ও শামুক-ঝিনুকের দোকানের কার্ড দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, গত ১৫-১৬ বছর বালিয়াড়ি দখল করে যত্রতত্র ঝুপড়ি দোকান ও অবৈধ স্থাপনা বসিয়ে বস্তি বানানো হয়েছিল। এতে পর্যটকেরা অবাধে হাঁটাচলাও করতে পারত না। সৈকতের এই রূপ ফেরাতে পরিবেশবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন।
কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ ন ম হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সৈকতের প্রাকৃতিক পরিবেশ ফেরানোর জন্য উদ্ধার করা বালিয়াড়িতে সাগরলতা, কেয়া ও নিশিন্ধার বনায়ন করা যায়। এর ফলে পর্যটকেরা যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ পাবে, তেমনি জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।’
কক্সবাজার কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ঝুপড়ি দোকান এবং নানা স্থাপনার কারণে সৈকতের পরিবেশ ও সৌন্দর্য অনেকটা হারিয়ে গিয়েছিল। গত দুই সপ্তাহ সৈকতের পুরোনো সৌন্দর্য যেন আবার ফিরেছে। পর্যটকেরা খোলামেলা পরিবেশে ঘোরাফেরা করতে পারছেন।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘বালিয়াড়ি দখল করে আর কোনো দোকান কিংবা স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। পাশাপাশি সৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ক্যাম্পাসে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
৭ মিনিট আগে
গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় অন্তত ৫০ জন শ্রমিক গণমনস্তাত্ত্বিক রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের অনেকেরই মাথা ঘোরানো ও বমির সমস্যা দেখা দিয়েছে।
১৭ মিনিট আগে
শিক্ষক হাজিরা খাতায় মায়ের স্বাক্ষর থাকলেও শ্রেণি শিক্ষা কার্যক্রমে উপস্থিত সদ্য আলিম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ছেলে। মায়ের হয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ দান করেন ছেলে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ওই শিক্ষিকা অসুস্থ। যদিও অসুস্থ ওই শিক্ষিকা নিয়মিত স্কুলে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন।
২২ মিনিট আগে
বক্তারা বলেন, ১৯৮৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শালবাহান তেলের খনি থেকে তেল উত্তোলন কার্যক্রম উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে অজ্ঞাত কারণে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পার হলেও এ বিষয়ে জনগণের সামনে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
১ ঘণ্টা আগে