Ajker Patrika

রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: টয়লেটে জড়াজড়ি করে পড়ে ছিল দম্পতি ও দুই শিশুর দগ্ধ লাশ

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: টয়লেটে জড়াজড়ি করে পড়ে ছিল দম্পতি ও দুই শিশুর দগ্ধ লাশ
স্ত্রী সন্তানের সঙ্গে সমুদ্রপাড়ে তুহিন। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে যশোরের মনিরামপুরের একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন, মনিরামপুর হাসপাতাল মোড়সংলগ্ন মোহনপুর এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা তানজি (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।

মনিরামপুর থানা-পুলিশ ও নিহত তুহিনের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স তাঁদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

আজ রোববার দুপুর ১২টা ৯ মিনিটে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে আজকের পত্রিকাকে প্রিন্স বলেন, ‘ওরা আর নেই। অঙ্গার হয়ে যাওয়া লাশের আকার-আকৃতি দেখে ভাই-ভাবি ও তাঁদের দুই মেয়েকে চিনতে পেরেছি। তবে চূড়ান্ত শনাক্তের জন্য আমার ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়েছে।’

স্ত্রী ও দুই মেয়ের সঙ্গে তুহিন। ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রী ও দুই মেয়ের সঙ্গে তুহিন। ছবি: সংগৃহীত

নিহতদের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, নাহিদুর রহমান তুহিন ঢাকার শ্যামলীতে ‘গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন এবং পরিবার নিয়ে মিরপুরে থাকতেন। গত বৃহস্পতিবার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে ঢাকা থেকে রওনা হন তিনি। শুক্রবার তাঁরা ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। আজ তাঁদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল।

তুহিনের চাচাতো ভাই রিয়াজ উদ্দিন জানান, শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকেই তুহিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। শনিবার সকালে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাঁর স্ত্রী তানজির ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁদের মোবাইলের সর্বশেষ লাইভ লোকেশন টুপটুপ রিসোর্টেই দেখাচ্ছিল।

রিয়াজ বলেন, ‘সারাদিন খোঁজ করেও ভাই ও তাঁর পরিবারের সন্ধান পাইনি। শনিবার সন্ধ্যায় রিসোর্টের টয়লেট থেকে জড়াজড়ি অবস্থায় চারজনের দগ্ধ লাশ উদ্ধারের পর আমরা ধরে নিয়েছি, তুহিন ভাই, তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে বেঁচে নেই। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আমাদের পরিবারসহ পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।’

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে মনিরামপুরের এক দম্পতি ও তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁদের মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালে রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত শনাক্তকরণ শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত