Ajker Patrika

নবীপ্রেম: মুমিনের জীবনের আলোকবর্তিকা

সাকী মাহবুব
নবীপ্রেম: মুমিনের জীবনের আলোকবর্তিকা
ছবি: সংগৃহীত

মুমিনের হৃদয়ের সবচেয়ে পবিত্র ও গভীর অনুভূতির নাম মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা। এই ভালোবাসা ইমানের অপরিহার্য দাবি, আত্মার চিরন্তন প্রশান্তি এবং মুমিনের সার্বিক জীবন পরিচালনার মূল অনুপ্রেরণা।

একজন খাঁটি মুমিনের কাছে প্রিয় নবী (সা.) তাঁর নিজের জীবনের চেয়েও বেশি প্রিয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান ও পৃথিবীর সমস্ত মানুষের চেয়েও অধিক প্রিয় হই।’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

নবীপ্রেমের প্রকৃত সৌন্দর্য ও সার্থকতা প্রকাশ পায় তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (সুরা আলে ইমরান: ৩১)। অর্থাৎ, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা অর্জনের একমাত্র মাধ্যম হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ভালোবেসে আঁকড়ে ধরা।

রাসুল (সা.) ছিলেন সত্যবাদিতা, আমানতদারি, দয়া, ক্ষমা, চরম বিনয় ও ন্যায়পরায়ণতার এক শাশ্বত প্রতীক। তিনি কঠিন শত্রুকেও পরম মমতায় ক্ষমা করেছেন, এতিম-অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সমাজে মানুষের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন।

তাই নবীপ্রেম মানে শুধু মুখে স্লোগান দেওয়া বা নাম শুনে আবেগাপ্লুত হওয়া নয়; বরং তাঁর সুমহান চরিত্রকে নিজের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে রূপ দেওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আহজাব: ২১)

অন্যত্র রাসুল (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করো এবং তাঁকে সালাম জানাও।’ (সুরা আহজাব: ৫৬)

মুখের ভালোবাসার দাবিকে আমরা কর্মে পরিণত করি; জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহকে অনুসরণ করি। কারণ, সুন্নাহভিত্তিক আদর্শ জীবন গঠনই হলো নবীপ্রেমের শ্রেষ্ঠ ও প্রকৃত পরিচয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত