ছয় দিনব্যাপী গণটিকা কার্যক্রমকে ঘিরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে দেখা দিয়েছিল এক ধরনের উৎসবের আমেজ। গত বুধবার বিকেল পর্যন্তও নিবন্ধন বুথগুলোতে ছিল টিকা প্রত্যাশীদের ভিড়, জনপ্রতিনিধিরাও ব্যস্ত ছিলেন নানা প্রস্তুতিতে।
তবে হুট করে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এই কার্যক্রম নিয়ে নতুন ঘোষণায় সব আয়োজনে যেন ভাটা পড়েছে। ৭ তারিখ এক দিন পরীক্ষামূলক টিকা দিয়ে এক সপ্তাহ পর তা পুরোদমে শুরুর সিদ্ধান্তে নগরবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। এতে প্রশ্নবাণে জর্জরিত হচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা, পড়ছেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।
টিকাদানকে ঘিরে বেশ আটঘাট বেঁধেই মাঠে নেমেছিলেন চসিকের প্যানেল মেয়র ও ১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।
তবে হুট করে টিকাদান কার্যক্রম পিছিয়ে দেওয়ায় জনরোষের মুখে পড়েছেন তিনি। বাধ্য হয়ে বন্ধ করেছেন নিজ উদ্যোগে খোলা তিনটি নিবন্ধন বুথ।
আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তে শুনতে হচ্ছে নানা কথা। আপাতত ৭ তারিখ প্রতি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে ৯০০ জন করে টিকা পাবেন। অথচ অনেকেই যেহেতু আমাদের নিবন্ধন বুথে এসে নাম লিখিয়ে গেছেন, তাঁরা চাইবেন এই এক দিনেই এসে টিকা দিতে। এদিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কিছুটা কঠিন হবে। আমরা সবাইকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করার ব্যাপারে বোঝাব।’
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কথা হয় নগরীর ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লবের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘খুব বিব্রতকর অবস্থায় আছি। এসে দেখে যান। আমাদের লোকজনের সঙ্গে এসে অনেকেই বাগ্বিতণ্ডায় জড়াচ্ছেন। আমরা মানুষকে বুঝিয়ে ক্লান্ত। ৭ তারিখ যাতে এমন না হয়, সে জন্য আগেভাগে সিরিয়াল দিয়ে দিচ্ছি। বয়স্ক, নারী আর প্রতিবন্ধীরা প্রাধান্য পাচ্ছেন।’
নগরীর চকবাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী মুজিবুল হক বলেন, আমি আমার পরিবারের সবার জন্য গত পরশু আগেভাগে ওয়ার্ড অফিসে এসে নিবন্ধন করে গেছি। অথচ এখন তাঁরা বলছেন আমার স্ত্রী ছাড়া আর কেউ টিকা পাবে না। বাকিদের দিতে হবে ১৪ তারিখের পর। টিকা নিয়ে এ ধরনের ছেলেখেলার মানে কী!
জামালখানের বাসিন্দা গৃহিণী সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আমি চমেক হাসপাতালে টিকার জন্য নিবন্ধন করলেও এখনো তারিখ পাইনি। তাই ভেবেছিলাম ওয়ার্ডের বুথে গিয়ে সহজেই টিকা দিয়ে আসব। কিন্তু নতুন করে শুনেছি তারা সিদ্ধান্ত পাল্টেছে। তাই আবারও টিকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছি।’
টিকা নিয়ে এমন তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘আসলে নিয়মিত কেন্দ্রগুলোতে টিকা নেওয়ার সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। তাই একটা সংকট হয়তো সাময়িকভাবে দেখা দিয়েছে। গণটিকা কার্যক্রমে সবার জন্য যাতে টিকা নিশ্চিত করা যায়, সে জন্য এমন তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত। ৭ তারিখকে আমরা এই কার্যক্রমের প্রথম পর্যায় ধরে ১৪ তারিখ শুরু করব মূল পর্যায়। আপাতত যে অসন্তোষ, সেটি তখন থাকবে না।’










