Ajker Patrika

বিআরটি প্রকল্প বাতিলের প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ৫৫
বিআরটি প্রকল্প বাতিলের প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি
সচেতন নাগরিক ঐক্য, গাজীপুরের ব্যানারে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

হাজার কোটি টাকা ব্যয় ও দীর্ঘ জনভোগান্তির পর প্রায় শেষ হয়ে আসা গাজীপুরে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। সচেতন নাগরিক ঐক্য, গাজীপুরের ব্যানারে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে প্রকল্প চালুর দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নগরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।

কর্মসূচিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মুখ্য সংগঠক আলী নাছের খান বক্তব্য দেন।

আলী নাছের খান বলেন, বিআরটি প্রকল্পের মাত্র ৩ শতাংশ কাজ অবশিষ্ট রয়েছে। এই কাজ শেষে ১৮৭টি বাস কেনার জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করলেই প্রকল্পটি সম্পন্ন করা সম্ভব।

আলী নাছের খানের অভিযোগ, ঠিকাদার সিন্ডিকেট, ‘মুড়ির টিন’ সিন্ডিকেট পরিবহন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বিএনপির দুর্নীতিবাজ নেতারা আমলাতন্ত্রকে প্রভাবিত করে সচিবের একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই বিআরটি প্রকল্প বাতিল করতে চাইছেন।

আলী নাছের খান বলেন, প্রকল্পটি নির্মাণ করতে ১৪ বছর লেগেছে। এখন এটি ভাঙতে আরও পাঁচ বছর লাগবে। ভবিষ্যতে ছয় লেনের সড়ক নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে তিন লেন দিয়ে যানবাহন চলবে এবং অন্য তিন লেনে ভাঙার কাজ চলবে।

আলী নাছের খান বলেন, এতে গাজীপুরবাসীকে আবারও তীব্র যানজটের দুর্ভোগ পোহাতে হবে এবং অঞ্চলটি বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত হবে। নতুন করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালসহ কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হবে। এতে গাজীপুরের উন্নয়নের সম্ভাবনা নষ্ট হবে।

আলী নাছের খান বলেন, সরকারের কাছে তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে বিআরটি প্রকল্প চালু করা হোক। অন্যথায় তাঁরা ধারাবাহিক প্রতিরোধ কর্মসূচি পালন করবেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘র‍্যাপিড ট্রানজিট বিআরটি প্রকল্প বাতিলের মাধ্যমে আমাদের ভোগান্তি আরও বাড়বে। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করার দাবি জানাচ্ছি। এই প্রকল্পের পেছনে সরকারের ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এটি ভাঙতে গেলে আরও অর্থ নষ্ট হবে। এ জন্য সরকারকে গভীরভাবে চিন্তা করে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানাই।’

মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা গাজীপুরবাসী দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছি। আরও কিছু সময় নিয়ে হলেও সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই আমাদের গাজীপুরবাসীর ভোগান্তি দূর করতে এটি চালু হোক।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত