Ajker Patrika

‘বাঁচাতে পারলাম না নাতিনকে’

ফায়সাল করিম, চট্টগ্রাম
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১: ২৮
‘বাঁচাতে পারলাম না নাতিনকে’

বড়পোল এলাকায় শুক্কুর মেম্বারের বাড়িজুড়ে হঠাৎ নেমেছে রাজ্যের নীরবতা। পরিবারের সবাই আছে, আছে অনেক স্বজনও। অথচ কারও মুখে কথা নেই। প্রত্যেকের মুখের রেখায় ভর করেছে প্রিয়জন হারানোর গভীর শোক। সেই শোকের ভারী পাথরে যেন চাপা পড়েছে তাদের ভেতরের একসমুদ্র কান্না।  

বাড়ির বড় মেয়ে হলেও সবার খুব আদরের ছিলেন সেহেরীন মাহবুব সাদিয়া। অথচ মাত্র ১৯ বছর বয়সেই নালায় পড়ে তার এমন করুণ মৃত্যু হবে এমনটি তো কারও কল্পনাতেও আসেনি। গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় আগোবাদ মাজারগেটের পাশের বড় নালায় পড়ে যান সাদিয়া। পাঁচ ঘণ্টার পর মেলে তাঁর মরদেহ।

নিজের চোখের সামনেই নাতনিকে নালায় পড়ে তলিয়ে যেতে দেখেছেন নানা মো. জামাল। মঙ্গলবার দুপুরে সাদিয়াদের ঘরের ডাইনিং রুমে শোকে বিভোর হয়ে বসে ছিলেন সৌম্য মুখের এই বৃদ্ধ। হঠাৎ বিলাপ করে বলে উঠলেন, ‘চোখের সামনে সে নালায় পড়ে গেল। আমিও সঙ্গে সঙ্গে পড়ে গেলাম। আমার বড় ছেলে আমাদের বাঁচাতে লাফ দিল। জায়গাটা অনেক পিচ্ছিল ছিল, অনেক স্রোত। পানির ধাক্কায় আমরা ভেসে যাচ্ছিলাম। ছেলে আমাকে ধরে রেখেছিল। কিন্তু মুহূর্তেই চোখের সামনে পানিতে পড়ে পিছলে গেল নাতিন। পানির ধাক্কায় গিয়ে মিশে গেল কালভার্টের নিচে থাকা ময়লার স্তূপে। ময়লার মধ্যেই প্রাণপণে তাকে খোঁজার চেষ্টা করলাম। পেলাম না। পরে রাত ৩টায় যেটা পেলাম, সেটা ছিল আমার নাতিনের লাশ। বাঁচাতে পরলাম না নাতিনকে।’

সাদিয়ার বাবা মোহাম্মদ আলী মেয়ের জন্য কাঁদতে কাঁদতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছেন।

হঠাৎ ভেতরের রুম থেকে ভেসে এল এক নারীকণ্ঠের বিলাপ। তাকাতেই চোখে পড়ল পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে আছেন সাদিয়ার মা। অস্ফুট কণ্ঠে বললেন, ‘আমার মেয়েটা সোজা জান্নাতে যাবে। আমার এমন লক্ষ্মী মেয়েটা।’

পাশেই করুণ মুখে দাঁড়িয়ে ছিল সাদিয়ার ছোট বোন সিনথিয়া। তার দিকে দেখিয়ে খালা রোজী বেগম বলেন, `চার ভাইবোনের মধ্যে সাদিয়া ছিল সবার বড়। ছোটদের অভিভাবকের মতো আগলে রাখত সে।' 

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত