ইসমাইল হোসেন কিরন, হাতিয়া (নোয়াখালী)

নোয়াখালী হাতিয়ার খেজুরের গুড়ের সুনাম রয়েছে সারা দেশে। উপহার হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয় এই গুড়। বিশেষ করে নিঝুম দ্বীপে ঘুরতে আসা পর্যটকেরা এই গুড়ের বড় ক্রেতা। সন্ধ্যার পর নিঝুম দ্বীপের গ্রাম্য হাটে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে এই গুড় বিক্রি করেন গাছিরা।
হাতিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে কম-বেশি খেজুরগাছ থাকলেও সবচেয়ে বেশি আছে নিঝুম দ্বীপে। এখানে শীত মৌসুম এলে খেজুরের গুড় তৈরি ও রস সংগ্রহের মহা উৎসব চলে। শীতের তিন মাস চলে এই কর্মযজ্ঞ। এ সময় অনেকেই খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
হাতিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, হাতিয়ার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেজুরগাছ নিঝুম দ্বীপ ও জাহাজমারা ইউনিয়নে। এই উপজেলায় প্রায় ২৮ হেক্টর জমিতে খেজুরগাছ রয়েছে। এক হেক্টর জায়গায় খেজুর গাছ হয় ১ হাজার ৯৯টি। প্রতি হেক্টরে ১৬ টন হারে ৪৫০ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদন সম্ভব।
সরেজমিনে দেখা যায় নিঝুম দ্বীপের নামার বাজার থেকে ওপরের বাজার হয়ে শতফুল বাজার পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে রয়েছে অসংখ্য খেজুরগাছ। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে এসব গাছ থেকে গাছিরা রস ভর্তি প্লাস্টিকের পাত্র নামিয়ে নিচ্ছেন। আকারভেদে কিছু গাছে পাত্রের অর্ধেক ভর্তি রস পাওয়া গেলেও অধিকাংশ পাত্র থাকে রসে পূর্ণ।
সকালে এই রাস্তায় হাঁটতে গেলে রসের গন্ধে মুগ্ধ হতে হয়। সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত গাছিরা ও গাছিদের পরিবারের সদস্যদের রস সংগ্রহের এই কাজে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়।
কথা হয় নিঝুম দ্বীপের শতফুল বাজারের পাশে যুগান্তর গ্রামের গাছি আলা উদ্দিনের (৫৫) সঙ্গে। তিনি জানান, প্রতিদিন শতাধিক গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। তাতে চার ঘণ্টা মাটির তৈরি চুলায় বিশেষ পাত্রে (তাওয়া) তাপ দেওয়ার পর ৯-১০ কেজি গুড় তৈরি করতে পারেন। প্রতি কেজি গুড় ২০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। তাঁর গুড়ের সুনাম থাকায় অনেকে বাড়ি থেকে কিনে নিয়ে যায়। মৌসুমের অর্ধেকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো বাজারে নিয়ে বিক্রি করা লাগেনি। অনেকে অগ্রিম টাকাও দিয়ে রেখেছেন। এ বছর শীতের মাত্রা বেশি হওয়ায় গুড়ের উৎপাদনও বেশি।
আলা উদ্দিন আরও জানান, আগের দিন দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাছে পাত্র বসানোর কাজ করেন। রাতভর সেই পাত্রে রস জমতে থাকে। সকালে সেই পাত্র থেকে রস সংগ্রহ করেন তাঁরা।
আলা উদ্দিনের মতো নিঝুম দ্বীপে শতাধিক গাছি রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির এ কাজ করেন। যাদের জীবিকা নির্বাহ হয় এই কাজ করে। নিঝুম দ্বীপের নামার বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী কেফায়েত মেম্বার বলেন, একসময় পর্যটকেরা এখানে এলে প্রচুর পরিমাণ মধু নিয়ে যেত। এখন মধুর পাশাপাশি তাঁরা খেজুরের গুড় নিয়ে যান। হোটেলে থাকতে এলে তারা গাছিদের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে সরাসরি গাছিদের বাড়িতে চলে যান গুড় কিনতে।
কেফায়েত মেম্বার আরও জানান, পর্যটকদের কাছে বিক্রি করতে বাজারের অনেক ব্যবসায়ী গাছিদের কাছ থেকে গুড় কিনে নিয়ে মজুত করেন, যা বছরের বিভিন্ন সময় রেখে দিয়ে বিক্রি করেন। তবে গ্রাম্য হাটের দিন কিছু গাছি বিকেলে বাজারে বসে এই গুড় বিক্রি করেন।
নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিনাজ উদ্দিন বলেন, এখানে গুড়ের মূল্য অনেক কম। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উপজেলা সদর থেকে গুড়ের কেজিপ্রতি দাম ৫০ টাকা কম। নিঝুম দ্বীপে যেসব খেজুরগাছ জন্মেছে তা কারও লাগানো গাছ নয়। এসব গাছ জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা খেজুরের বিচি থেকে প্রাকৃতিকভাবে জন্মেছে। সরকারিভাবে নতুন করে এই অঞ্চলে খেজুরগাছ লাগানো উচিত।
হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ বলেন, ‘গুড় তৈরি ও বাজারজাতকরণে হাতিয়ায় উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে কৃষি দপ্তর থেকে খেজুর গাছ লাগানোর কোনো প্রকল্প নেই। তবে গাছিরা মাঝেমধ্যে খেজুরগাছের পরিচর্যার বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে থাকেন। হাতিয়ার দক্ষিণ অঞ্চলের মতো উত্তর অঞ্চলেও একসময় প্রচুর খেজুরগাছ ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক গাছ মরে গেছে। সরকারিভাবে এই অঞ্চলে খেজুরগাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন আছে বলে মনে করি।’

নোয়াখালী হাতিয়ার খেজুরের গুড়ের সুনাম রয়েছে সারা দেশে। উপহার হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয় এই গুড়। বিশেষ করে নিঝুম দ্বীপে ঘুরতে আসা পর্যটকেরা এই গুড়ের বড় ক্রেতা। সন্ধ্যার পর নিঝুম দ্বীপের গ্রাম্য হাটে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে এই গুড় বিক্রি করেন গাছিরা।
হাতিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে কম-বেশি খেজুরগাছ থাকলেও সবচেয়ে বেশি আছে নিঝুম দ্বীপে। এখানে শীত মৌসুম এলে খেজুরের গুড় তৈরি ও রস সংগ্রহের মহা উৎসব চলে। শীতের তিন মাস চলে এই কর্মযজ্ঞ। এ সময় অনেকেই খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
হাতিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, হাতিয়ার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেজুরগাছ নিঝুম দ্বীপ ও জাহাজমারা ইউনিয়নে। এই উপজেলায় প্রায় ২৮ হেক্টর জমিতে খেজুরগাছ রয়েছে। এক হেক্টর জায়গায় খেজুর গাছ হয় ১ হাজার ৯৯টি। প্রতি হেক্টরে ১৬ টন হারে ৪৫০ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদন সম্ভব।
সরেজমিনে দেখা যায় নিঝুম দ্বীপের নামার বাজার থেকে ওপরের বাজার হয়ে শতফুল বাজার পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে রয়েছে অসংখ্য খেজুরগাছ। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে এসব গাছ থেকে গাছিরা রস ভর্তি প্লাস্টিকের পাত্র নামিয়ে নিচ্ছেন। আকারভেদে কিছু গাছে পাত্রের অর্ধেক ভর্তি রস পাওয়া গেলেও অধিকাংশ পাত্র থাকে রসে পূর্ণ।
সকালে এই রাস্তায় হাঁটতে গেলে রসের গন্ধে মুগ্ধ হতে হয়। সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত গাছিরা ও গাছিদের পরিবারের সদস্যদের রস সংগ্রহের এই কাজে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়।
কথা হয় নিঝুম দ্বীপের শতফুল বাজারের পাশে যুগান্তর গ্রামের গাছি আলা উদ্দিনের (৫৫) সঙ্গে। তিনি জানান, প্রতিদিন শতাধিক গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। তাতে চার ঘণ্টা মাটির তৈরি চুলায় বিশেষ পাত্রে (তাওয়া) তাপ দেওয়ার পর ৯-১০ কেজি গুড় তৈরি করতে পারেন। প্রতি কেজি গুড় ২০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। তাঁর গুড়ের সুনাম থাকায় অনেকে বাড়ি থেকে কিনে নিয়ে যায়। মৌসুমের অর্ধেকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো বাজারে নিয়ে বিক্রি করা লাগেনি। অনেকে অগ্রিম টাকাও দিয়ে রেখেছেন। এ বছর শীতের মাত্রা বেশি হওয়ায় গুড়ের উৎপাদনও বেশি।
আলা উদ্দিন আরও জানান, আগের দিন দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাছে পাত্র বসানোর কাজ করেন। রাতভর সেই পাত্রে রস জমতে থাকে। সকালে সেই পাত্র থেকে রস সংগ্রহ করেন তাঁরা।
আলা উদ্দিনের মতো নিঝুম দ্বীপে শতাধিক গাছি রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির এ কাজ করেন। যাদের জীবিকা নির্বাহ হয় এই কাজ করে। নিঝুম দ্বীপের নামার বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী কেফায়েত মেম্বার বলেন, একসময় পর্যটকেরা এখানে এলে প্রচুর পরিমাণ মধু নিয়ে যেত। এখন মধুর পাশাপাশি তাঁরা খেজুরের গুড় নিয়ে যান। হোটেলে থাকতে এলে তারা গাছিদের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে সরাসরি গাছিদের বাড়িতে চলে যান গুড় কিনতে।
কেফায়েত মেম্বার আরও জানান, পর্যটকদের কাছে বিক্রি করতে বাজারের অনেক ব্যবসায়ী গাছিদের কাছ থেকে গুড় কিনে নিয়ে মজুত করেন, যা বছরের বিভিন্ন সময় রেখে দিয়ে বিক্রি করেন। তবে গ্রাম্য হাটের দিন কিছু গাছি বিকেলে বাজারে বসে এই গুড় বিক্রি করেন।
নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিনাজ উদ্দিন বলেন, এখানে গুড়ের মূল্য অনেক কম। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উপজেলা সদর থেকে গুড়ের কেজিপ্রতি দাম ৫০ টাকা কম। নিঝুম দ্বীপে যেসব খেজুরগাছ জন্মেছে তা কারও লাগানো গাছ নয়। এসব গাছ জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা খেজুরের বিচি থেকে প্রাকৃতিকভাবে জন্মেছে। সরকারিভাবে নতুন করে এই অঞ্চলে খেজুরগাছ লাগানো উচিত।
হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ বলেন, ‘গুড় তৈরি ও বাজারজাতকরণে হাতিয়ায় উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে কৃষি দপ্তর থেকে খেজুর গাছ লাগানোর কোনো প্রকল্প নেই। তবে গাছিরা মাঝেমধ্যে খেজুরগাছের পরিচর্যার বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে থাকেন। হাতিয়ার দক্ষিণ অঞ্চলের মতো উত্তর অঞ্চলেও একসময় প্রচুর খেজুরগাছ ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক গাছ মরে গেছে। সরকারিভাবে এই অঞ্চলে খেজুরগাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন আছে বলে মনে করি।’

রাজশাহীতে রাস্তার কাজের সাইটে চাঁদা চাইতে গিয়ে পিটুনির শিকার হয়েছেন এক বিএনপির কর্মী। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা কলেজ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
৩৮ মিনিট আগে
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ২৬ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
৪৪ মিনিট আগে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষকের প্রাইভেট কারের ধাক্কায় এক ছাত্রী আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে। আহত ওই ছাত্রী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের অর্থোপেডিকস ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া কলাহাটের ভেতরে উল্টে যাওয়া বালুর ট্রাকের নিচে পড়ে আহত কলার ব্যাপারী রায়হানুল ইসলামও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচজনে
১ ঘণ্টা আগে