নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সংসদ সদস্য আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। এত দিন আকারে ইঙ্গিতে বিষয়টি টের পাওয়া যাচ্ছিল, কিন্তু সেই রাখ-ঢাক আর থাকছে না। সম্প্রতি এক সভায় বিপ্লব বড়ুয়ার নাম ধরে সমালোচনা করেন নদভী।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই বক্তব্যের ভিডিও নিয়ে সরগরম আলোচনা চলছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের ভেতরে এই ধরনের দ্বন্দ্বের প্রকাশকে ভালো চোখে দেখছেন না স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।
গত শুক্রবার সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের চিববাড়ি এমএ মোতালেব কলেজের আইসিটি ভবনের উদ্বোধন করা হয়। সেখানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও বিপ্লব বড়ুয়া অতিথি হিসেবে থাকলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য নদভী ছিলেন না। এই সংসদ সদস্যের অভিযোগ, ওই কলেজ ভবন তার চাহিদাপত্রের (ডিও লেটার) ভিত্তিতে নির্মিত হলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামায়াতে ইসলামী নিয়ন্ত্রিত চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে আওয়ামী লীগে আসা আবু রেজা নেজামুদ্দিন নদভী। গত শনিবার লোহাগাড়া উপজেলার পাদুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এসআই চৌধুরীর স্মরণ সভার বক্তৃতায় তাঁর কণ্ঠে সেই ক্ষোভ ঝরে।
সেখানে নদভী বলেন, ‘বিপ্লব বড়ুয়া সাহেব এই ধরনের কর্মপরিধি উদ্বোধন করতে চান, ভবিষ্যতে তাহলে নির্বাচন করেন। এমপি হয়ে আসেন। তারপর উদ্বোধন করেন। আপনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হয়ে, দপ্তর সম্পাদক হয়ে নিয়মের বাইরে কাজ করতে পারবেন না। এই ধরনের প্রকল্প উদ্বোধনের জন্য ভবিষ্যতে আসতে পারবেন না। আমি সহজ মানুষ নই। আমি প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান করি।’
তিনি বলেন, ‘এমপি কে হবে, নমিনেশন কে পাবে, এটি প্রথমে আল্লাহর তদবিরের ব্যাপার। দ্বিতীয় হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থা-নির্দেশনা। প্রধানমন্ত্রী যাকে দেবেন সেই নির্বাচন করবে। আমিও হতে পারি, অন্যজনেও হতে পারে। ১০০ কোটি টাকা খরচ করব যারা বলেন—‘ওডা তুই ১০০ কোটি টাকা খরচ গইললে, আই এক হাজার কোটি টাকা খরচ গইজ্জম। হথা ইন কিইল্লায় হডদে (তুমি ১০০ কোটি টাকা খরচ করলে, আমি ১ হাজার কোটি টাকা খরচ করব)।’
এই বক্তব্য দেওয়ার দুদিনের মাথায় গতকাল রোববার ওই কলেজের ভবন উদ্বোধনের ফলক ভেঙে ফেলা হয়। বিপ্লব বড়ুয়ার নাম ধরে নদভীর প্রকাশ্য বক্তব্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের নামফলক ভাঙা নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে। এরই মধ্যে ফেসবুকে নেতা-কর্মীরা নদভীর সমালোচনা করছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান সুইডেন প্রবাসী মো. জমির উদ্দিন ফেসবুকে বিপ্লব বড়ুয়াকে ট্যাগ করে লিখেন, ‘অযোগ্য লোক যদি বেশি কিছু পেয়ে যায়, ধরাকে সরা মনে করে। ওনাকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়া নাকি কেয়ামতের লক্ষণ। কত্তবড় আহাম্মক হলে এই কথা বলতে পারে। রাজনীতিবিদদের রাজনীতি করতে না দেওয়ার ফল এইগুলি। জনসম্মুখে অরাজনৈতিক বক্তব্য এবং সম্মানহানি করায় ওনার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা দরকার। আমি দেশে থাকলে আমিই বাদী হয়ে মামলা করতাম।’
লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে চট্টগ্রাম-১৫ আসনটি গঠিত। ১৯৭৩ সালের পর ২০১৪ সালে প্রথমবার এ আসনে জয় পায় আওয়ামী লীগ। এর আগে এই আসনে জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী এমপি ছিলেন। ২০১৪ থেকে আওয়ামী লীগের এমপি নদভী।
নিজের বাড়ির এই আসনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হওয়ার পর থেকে বিপ্লব বড়ুয়ারও কদর বাড়ছে। এই আসনকেন্দ্রিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন তিনি। নদভী, বিপ্লব বড়ুয়া ছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম আমিন আজকের পত্রিকা’কে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। দুজনেই ভালো বলতে পারবেন।’
মন্তব্যের বিষয়ে জানতে এমপি নদভীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে এসএমএস পাঠালেও কোনো সাড়া মেলেনি। আর বিপ্লব বড়ুয়া বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দলে সব সময় ত্যাগী নেতাদের স্থান দেওয়া উচিত। কেউ শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দিলে সেটি দল মেনে নেবে না।’
আরও খবর পড়ুন:

সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সংসদ সদস্য আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। এত দিন আকারে ইঙ্গিতে বিষয়টি টের পাওয়া যাচ্ছিল, কিন্তু সেই রাখ-ঢাক আর থাকছে না। সম্প্রতি এক সভায় বিপ্লব বড়ুয়ার নাম ধরে সমালোচনা করেন নদভী।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই বক্তব্যের ভিডিও নিয়ে সরগরম আলোচনা চলছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের ভেতরে এই ধরনের দ্বন্দ্বের প্রকাশকে ভালো চোখে দেখছেন না স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।
গত শুক্রবার সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের চিববাড়ি এমএ মোতালেব কলেজের আইসিটি ভবনের উদ্বোধন করা হয়। সেখানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও বিপ্লব বড়ুয়া অতিথি হিসেবে থাকলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য নদভী ছিলেন না। এই সংসদ সদস্যের অভিযোগ, ওই কলেজ ভবন তার চাহিদাপত্রের (ডিও লেটার) ভিত্তিতে নির্মিত হলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামায়াতে ইসলামী নিয়ন্ত্রিত চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে আওয়ামী লীগে আসা আবু রেজা নেজামুদ্দিন নদভী। গত শনিবার লোহাগাড়া উপজেলার পাদুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এসআই চৌধুরীর স্মরণ সভার বক্তৃতায় তাঁর কণ্ঠে সেই ক্ষোভ ঝরে।
সেখানে নদভী বলেন, ‘বিপ্লব বড়ুয়া সাহেব এই ধরনের কর্মপরিধি উদ্বোধন করতে চান, ভবিষ্যতে তাহলে নির্বাচন করেন। এমপি হয়ে আসেন। তারপর উদ্বোধন করেন। আপনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হয়ে, দপ্তর সম্পাদক হয়ে নিয়মের বাইরে কাজ করতে পারবেন না। এই ধরনের প্রকল্প উদ্বোধনের জন্য ভবিষ্যতে আসতে পারবেন না। আমি সহজ মানুষ নই। আমি প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান করি।’
তিনি বলেন, ‘এমপি কে হবে, নমিনেশন কে পাবে, এটি প্রথমে আল্লাহর তদবিরের ব্যাপার। দ্বিতীয় হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থা-নির্দেশনা। প্রধানমন্ত্রী যাকে দেবেন সেই নির্বাচন করবে। আমিও হতে পারি, অন্যজনেও হতে পারে। ১০০ কোটি টাকা খরচ করব যারা বলেন—‘ওডা তুই ১০০ কোটি টাকা খরচ গইললে, আই এক হাজার কোটি টাকা খরচ গইজ্জম। হথা ইন কিইল্লায় হডদে (তুমি ১০০ কোটি টাকা খরচ করলে, আমি ১ হাজার কোটি টাকা খরচ করব)।’
এই বক্তব্য দেওয়ার দুদিনের মাথায় গতকাল রোববার ওই কলেজের ভবন উদ্বোধনের ফলক ভেঙে ফেলা হয়। বিপ্লব বড়ুয়ার নাম ধরে নদভীর প্রকাশ্য বক্তব্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের নামফলক ভাঙা নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে। এরই মধ্যে ফেসবুকে নেতা-কর্মীরা নদভীর সমালোচনা করছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান সুইডেন প্রবাসী মো. জমির উদ্দিন ফেসবুকে বিপ্লব বড়ুয়াকে ট্যাগ করে লিখেন, ‘অযোগ্য লোক যদি বেশি কিছু পেয়ে যায়, ধরাকে সরা মনে করে। ওনাকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়া নাকি কেয়ামতের লক্ষণ। কত্তবড় আহাম্মক হলে এই কথা বলতে পারে। রাজনীতিবিদদের রাজনীতি করতে না দেওয়ার ফল এইগুলি। জনসম্মুখে অরাজনৈতিক বক্তব্য এবং সম্মানহানি করায় ওনার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা দরকার। আমি দেশে থাকলে আমিই বাদী হয়ে মামলা করতাম।’
লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে চট্টগ্রাম-১৫ আসনটি গঠিত। ১৯৭৩ সালের পর ২০১৪ সালে প্রথমবার এ আসনে জয় পায় আওয়ামী লীগ। এর আগে এই আসনে জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী এমপি ছিলেন। ২০১৪ থেকে আওয়ামী লীগের এমপি নদভী।
নিজের বাড়ির এই আসনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হওয়ার পর থেকে বিপ্লব বড়ুয়ারও কদর বাড়ছে। এই আসনকেন্দ্রিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন তিনি। নদভী, বিপ্লব বড়ুয়া ছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম আমিন আজকের পত্রিকা’কে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। দুজনেই ভালো বলতে পারবেন।’
মন্তব্যের বিষয়ে জানতে এমপি নদভীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে এসএমএস পাঠালেও কোনো সাড়া মেলেনি। আর বিপ্লব বড়ুয়া বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দলে সব সময় ত্যাগী নেতাদের স্থান দেওয়া উচিত। কেউ শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দিলে সেটি দল মেনে নেবে না।’
আরও খবর পড়ুন:

কুলকান্দী ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান আনিছ বলেন, আনন্দ বাজার এলাকায় দেশীয় অস্ত্রসহ ঘোরাফেরা করতে দেখে আনোয়ারকে আটক করে স্থানীয় লোকজন ইউপি কার্যালয়ে এনে গ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।
২৬ মিনিট আগে
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বদলি করা হয়। আজ বুধবার সকালে ইউএনও মাসুদুর রহমান নিজেই বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বর্তমান কলেজ প্রশাসন ছাত্রাবাসটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়। ইতিমধ্যে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৪ জন শিক্ষার্থীকে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা সেখানে উঠবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
২ ঘণ্টা আগে
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর এলাকায় একটি প্লাস্টিক পণ্য তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টায় গোগনগরের মসিনাবন্দ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রায় চার ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।
২ ঘণ্টা আগে