Ajker Patrika

স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ ১১ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি, তদন্তে কমিটি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৪৮
স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ ১১ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি, তদন্তে কমিটি
স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার পুলিশ লাইনস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অন্তত ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। আজ রোববার বেলা সোয়া ১টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে অসুস্থ অবস্থায় তাদের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাম উন্নয়ন কর্মকে (গাক) এক লাখ টাকা জরিমানা ও ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন।

পুলিশ লাইনস প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, অন্য দিনের মতো আজও স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের ডিম ও বনরুটি দেওয়া হয়। খাবার খেয়ে একে একে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের সবারই পেটব্যথাসহ খাদ্যে বিষক্রিয়ার বিভিন্ন উপসর্গ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবার খাওয়ার পরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবে হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীরা আশঙ্কামুক্ত। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

শারমিলা খাতুন নামের অসুস্থ এক শিক্ষার্থী জানায়, দুপুরে প্রথমে সে বনরুটি খেয়েছিল। পরে ডিমে গন্ধ পেয়ে সাদা অংশ ফেলে দিয়ে শুধু কুসুম খায়। কিছু সময় পর তার বমিভাব ও পেটব্যথা শুরু হয়। এরপর তার সঙ্গে আরও অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে বলেও জানায় শারমিলা।

অসুস্থ শিক্ষার্থী মাহুমুদা আক্তার বলে, ‘টিফিন খাওয়ার সময় ডিমের সাদা অংশে কালো কিছু একটা দেখে সেটি ফেলে দিয়ে শুধু কুসুম খাই। অনেকে ডিম খায়নি। যারা খেয়েছে, তাদের অনেকের পেটব্যথা শুরু হয়।’

খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে অসুস্থ এক শিক্ষার্থীর বাবা জহুরুল ইসলাম বলেন, এর আগেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কিছুদিন খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখার পর আবার একই প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ইউএনও মারুফ আফজাল রাজন বলেন, গঠিত তদন্ত কমিটি খাবারে কী ধরনের ত্রুটি ছিল, তা খতিয়ে দেখবে। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের পরিচালক সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাকের জেলা সমন্বয়কারী কবির হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এর আগেও চারটি বিদ্যালয়ে গাকের সরবরাহ করা স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা ও তদন্ত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত