চাঁদপুর প্রতিনিধি

ইটভাটার আগ্রাসনে চাঁদপুরে ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি ক্রমে কমছে। প্রতিবছর শীত মৌসুমে ভাটাগুলো চালুর সময় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবাধে কাটা হয় কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি। এতে জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি নিচু হয়ে যাচ্ছে মাটির স্তর। সেচে বাড়ছে ভোগান্তি, চাষে বাড়ছে খরচ। কৃষি বিভাগ বলছে, এর প্রভাবে জমিতে নিবিড় চাষের সক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে প্রশাসন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুরে ইটভাটা রয়েছে ৯৩টি। এর মধ্যে বর্তমানে চালু আছে ৮৫টি। এসব ভাটায় ব্যবহৃত মাটির অধিকাংশই আসে কৃষিজমি থেকে। বিশেষ করে ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলায় শীত মৌসুমে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
ফরিদগঞ্জের সুবিদপুর ইউনিয়নের সাচনমেঘ গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এলাকার জমিগুলো একসময় উঁচু ছিল। মাটি কাটার ফলে এখন অনেক নিচু হয়ে গেছে। এ কারণে পাশের জমিগুলোতে আর পানি ধরে রাখা যায় না। পানির জন্য বিড়ম্বনার পাশাপাশি জমিগুলো প্রস্তুত করতে অনেক বেশি সময় লাগে। এসব করতে গিয়ে খরচও বেড়ে যায়। এ ছাড়া জমি নিচু হওয়ার কারণে বৈশাখ মাসে ঝড়বৃষ্টি হলে ফসল আর ঘরে তোলা সম্ভব হয় না। গত কয়েক বছর এই পরিস্থিতি ছিল। অনেকে খরচ দিতে না পেরে ফসল আর বাড়িতে নেয়নি। পানিতে তলিয়ে ছিল।
একই এলাকার আরেক কৃষক ফয়সাল আহমেদ বলেন, উর্বর মাটি কাটার কারণে পাশের জমির ক্ষতি হয়। পানি ধরে রাখা যায় না। এ ছাড়া ট্রাক্টর দিয়ে মাটি নেওয়ায় সড়কগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লোকালয়ে ধুলাবালু বেড়ে যায়। পাশের উটতলী গ্রামের কৃষক ওসমান গণি বলেন, ইটভাটায় মাটি নেওয়ার ফলে জমি উঁচু-নিচু হয়ে যাচ্ছে। ফলে পাশের জমি সমতল রাখতে তাদেরও বাধ্য হয়ে মাটি বিক্রি করতে হয়। এভাবে মাটি নেওয়ার কয়েক বছর পর আর আগের মতো ফলন হয় না।
ফরিদগঞ্জ ও হাজীগঞ্জে কৃষিজমির মাটি কাটা হয় বেশির ভাগ রাতের বেলায়। পরে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি ইটভাটায় পৌঁছানো হয়। যদিও নিয়ম অনুযায়ী, কৃষিকাজের বাইরে ট্রাক্টর ব্যবহারের সুযোগ নেই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, জেলায় ৯৩টি ইটভাটা রয়েছে। কৃষিজমির মাটি থেকে এখানে ইট তৈরি করা হয়। কৃষিজমির ওপরের ৬ থেকে ৮ ইঞ্চির মধ্যে জমির ফসল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। এসব মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি হারায় এবং উৎপাদনক্ষমতা কমে যায়। এ ছাড়া চাঁদপুর জলমগ্ন এলাকার হওয়ায় জমিগুলো নিচু হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি নিবিড়তা হারাচ্ছে।
ফরিদগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘জমির মাটি কাটার সংবাদ পেলে কৃষি বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। গত দুই মাসে উপজেলায় ২০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানার পাশাপাশি ভেকু, ড্রেজার ও ট্রাক্টর জব্দ করা হয়। তবে শুধু অভিযান নয়, কৃষিজমির মাটি কাটা প্রতিরোধে সভা-সমাবেশে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। ফসলি জমির মাটি কাটার ফলে ফসল ও জমির কী কী ধরনের ক্ষতি হয়, কৃষি বিভাগের সমন্বয় করে কৃষকদের তা বোঝানো হচ্ছে।’

ইটভাটার আগ্রাসনে চাঁদপুরে ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি ক্রমে কমছে। প্রতিবছর শীত মৌসুমে ভাটাগুলো চালুর সময় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবাধে কাটা হয় কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি। এতে জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি নিচু হয়ে যাচ্ছে মাটির স্তর। সেচে বাড়ছে ভোগান্তি, চাষে বাড়ছে খরচ। কৃষি বিভাগ বলছে, এর প্রভাবে জমিতে নিবিড় চাষের সক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে প্রশাসন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুরে ইটভাটা রয়েছে ৯৩টি। এর মধ্যে বর্তমানে চালু আছে ৮৫টি। এসব ভাটায় ব্যবহৃত মাটির অধিকাংশই আসে কৃষিজমি থেকে। বিশেষ করে ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলায় শীত মৌসুমে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
ফরিদগঞ্জের সুবিদপুর ইউনিয়নের সাচনমেঘ গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এলাকার জমিগুলো একসময় উঁচু ছিল। মাটি কাটার ফলে এখন অনেক নিচু হয়ে গেছে। এ কারণে পাশের জমিগুলোতে আর পানি ধরে রাখা যায় না। পানির জন্য বিড়ম্বনার পাশাপাশি জমিগুলো প্রস্তুত করতে অনেক বেশি সময় লাগে। এসব করতে গিয়ে খরচও বেড়ে যায়। এ ছাড়া জমি নিচু হওয়ার কারণে বৈশাখ মাসে ঝড়বৃষ্টি হলে ফসল আর ঘরে তোলা সম্ভব হয় না। গত কয়েক বছর এই পরিস্থিতি ছিল। অনেকে খরচ দিতে না পেরে ফসল আর বাড়িতে নেয়নি। পানিতে তলিয়ে ছিল।
একই এলাকার আরেক কৃষক ফয়সাল আহমেদ বলেন, উর্বর মাটি কাটার কারণে পাশের জমির ক্ষতি হয়। পানি ধরে রাখা যায় না। এ ছাড়া ট্রাক্টর দিয়ে মাটি নেওয়ায় সড়কগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লোকালয়ে ধুলাবালু বেড়ে যায়। পাশের উটতলী গ্রামের কৃষক ওসমান গণি বলেন, ইটভাটায় মাটি নেওয়ার ফলে জমি উঁচু-নিচু হয়ে যাচ্ছে। ফলে পাশের জমি সমতল রাখতে তাদেরও বাধ্য হয়ে মাটি বিক্রি করতে হয়। এভাবে মাটি নেওয়ার কয়েক বছর পর আর আগের মতো ফলন হয় না।
ফরিদগঞ্জ ও হাজীগঞ্জে কৃষিজমির মাটি কাটা হয় বেশির ভাগ রাতের বেলায়। পরে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি ইটভাটায় পৌঁছানো হয়। যদিও নিয়ম অনুযায়ী, কৃষিকাজের বাইরে ট্রাক্টর ব্যবহারের সুযোগ নেই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, জেলায় ৯৩টি ইটভাটা রয়েছে। কৃষিজমির মাটি থেকে এখানে ইট তৈরি করা হয়। কৃষিজমির ওপরের ৬ থেকে ৮ ইঞ্চির মধ্যে জমির ফসল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। এসব মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি হারায় এবং উৎপাদনক্ষমতা কমে যায়। এ ছাড়া চাঁদপুর জলমগ্ন এলাকার হওয়ায় জমিগুলো নিচু হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি নিবিড়তা হারাচ্ছে।
ফরিদগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘জমির মাটি কাটার সংবাদ পেলে কৃষি বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। গত দুই মাসে উপজেলায় ২০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানার পাশাপাশি ভেকু, ড্রেজার ও ট্রাক্টর জব্দ করা হয়। তবে শুধু অভিযান নয়, কৃষিজমির মাটি কাটা প্রতিরোধে সভা-সমাবেশে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। ফসলি জমির মাটি কাটার ফলে ফসল ও জমির কী কী ধরনের ক্ষতি হয়, কৃষি বিভাগের সমন্বয় করে কৃষকদের তা বোঝানো হচ্ছে।’

ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাস ও লাইসেন্স দেওয়ার নামে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নওগাঁ সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) বিরুদ্ধে। পরীক্ষায় পাস করিয়ে দিতে জনপ্রতি ২ হাজার করে টাকা নেওয়া হয়েছে।
২৭ মিনিট আগে
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের আব্বাসনগরে সোমেশ্বরী নদীর ওপর গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। এখন পর্যন্ত সেতুর খুঁটি (পিলার) নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। অন্য কাজ আর হয়নি।
১ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ওই তারিখের আগে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী কিংবা তাঁদের পক্ষে কেউ প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
২ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ঢাকা-৪ আসনের সর্বত্র উৎসবমুখর পরিবেশ। পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানগুলোতে জমে উঠেছে ভোটের আলাপ। তবে ভোটাররা এখন অনেক সচেতন। তাঁদের অনেকেই হিসাব কষছেন, কাকে ভোট দিলে ভালো থাকা যাবে, দেশ ভালো চলবে।
২ ঘণ্টা আগে