Ajker Patrika

আদমদীঘিতে প্রভাবশালীদের চাপে সিলগালা করা সারের গুদাম খুলে দিল কর্তৃপক্ষ

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৫৫
আদমদীঘিতে প্রভাবশালীদের চাপে সিলগালা করা সারের গুদাম খুলে দিল কর্তৃপক্ষ
সিলগালা করার ২৫ দিন পরই খুলে দেওয়া হলো মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজের সার গুদামটি। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন এবং ডিলার-টু-ডিলার স্থানান্তরের বিধি অনুসরণ না করে সরকারি সার পরিবহন করায় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দেয় বিএডিসির ডিলার প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজের সার গুদামটি। তবে প্রভাবশালীদের চাপে মাত্র ২৫ দিন পরই বগুড়ার আদমদীঘির এই সারের গুদাম খুলে দিতে বাধ্য হলো প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার সকালে গুদামটি খুলে দেওয়া হয়। একই দিন কৃষি অফিসার রবিউল ইসলাম সারের নিয়মিত বরাদ্দ দেন।

মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এম. এ. কাশেম আওয়ামী লীগের সক্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে সিলগালা করা গুদাম খুলে দেওয়া হলো, তা নিয়ে এলাকায় সমালোচনা চলছে। একাধিকবার অভিযোগ ওঠার পরও কেন তাঁর বিরুদ্ধে স্থায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নও উঠেছে জনমনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই সকালে উপজেলা সদর ইউনিয়নের কেশরতা গ্রামের এক কৃষক শতাধিক বস্তা রাসায়নিক সার বোঝাই দুটি ভটভটি দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। চালকদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সারগুলো কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের কড়ই হাট এলাকার বিএডিসির ডিলার মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজ থেকে উপজেলা সদরের মেসার্স খন্দকার ট্রেডার্সে নেওয়া হচ্ছিল।

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলামকে জানানো হলেও তিনি সারগুলো অন্য উপজেলার বলে দাবি করে কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরে ডিলার এম. এ. কাশেম সারগুলোর মালিকানা স্বীকার করে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন দাবি করেন, সারগুলো নওগাঁর রানীনগর উপজেলার আবাদপুকুর বাজার থেকে আনা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন এবং ডিলার-টু-ডিলার স্থানান্তরের বিধি অনুসরণ না করে সার পরিবহন করা হয়েছে, যা নীতিমালার পরিপন্থী। এ অবস্থায় ঘটনার পরদিন ১৯ জুলাই সকালে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম। এ সময় বিএডিসির ডিলার প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাঁদের সার গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয়।

এদিকে, গুদাম সিলগালার ঘটনার মাত্র ২৫ দিন পরই গত বৃহস্পতিবার সকালে সার গুদামটি খুলে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য সারের বরাদ্দও দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিএডিসি সার ডিলারের স্বত্বাধিকারী এম. এ. কাশেম বলেন, ‘প্রক্রিয়া অনুযায়ী সার গুদাম খুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবার থেকে কৃষকদের মধ্যে সার বিক্রি শুরু হবে।’

উপজেলা কৃষি অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, ‘মুচলেকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি খুলে দেওয়া হয়েছে।’ অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন পাঠাই। তাঁদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের তেমন কিছু করার থাকে না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত