Ajker Patrika

পুকুরে পানি থাকে না বারো মাস, বানানো হয়েছে শানবাঁধানো ঘাট

ধুনট (বগুড়া) সংবাদদাতা
পুকুরে পানি থাকে না বারো মাস, বানানো হয়েছে শানবাঁধানো ঘাট
পানিবিহীন পুকুরে ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি শানবাঁধানো ঘাট। ছবি: আজকের পত্রিকা

বগুড়ার ধুনট উপজেলা পরিষদ চত্বরে খনন করা একটি পুকুরে পানি থাকে না বছরের কোনো সময়ই। সেই পুকুরে বানানো হয়েছে শানবাঁধানো ঘাট। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা। শুকনো পুকুরে উন্নয়নের নামে লাখ লাখ টাকা লোপাটের জন্য এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল বলে সচেতন মহলের অভিযোগ।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আশির দশকে উপজেলা পরিষদ গঠনের সময় সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সুপেয় পানির প্রাপ্তি নিশ্চিত করতেই ভবনগুলোর মাঝখানে একটি পুকুর খনন করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে ওই পুকুরটিতে আর কোনো সংস্কারকাজ করা হয়নি। ফলে পানি শুকিয়ে পুকুরটির চারপাশ ময়লা-আবর্জনায় ভরে যায়। এ অবস্থায় ২০২০-২১ সালে অর্থবছরে উপজেলা পরিষদ বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত পুকুর পাড়টি সংস্কার করেন। কিন্তু পুকুরে পানি ধারণের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ অবস্থায় তিনি বদলি হয়ে অন্য স্টেশনে চলে যান।

পানিবিহীন পুকুরে ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি শানবাঁধানো ঘাট। ছবি: আজকের পত্রিকা
পানিবিহীন পুকুরে ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি শানবাঁধানো ঘাট। ছবি: আজকের পত্রিকা

তারপর ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নেন আশিক খান। তিনি যোগদানের পর ওই পুকুরটি নতুন করে সংস্কারের নামে গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল (এডিবি) থেকে শানবাঁধানো ঘাটের জন্য প্রায় ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। তিনি তাঁর পছন্দের একজন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে তৈরি করেন শানবাঁধানো ঘাট। কিন্তু তিনিও পুকুরে পানি ধারণক্ষমতার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেননি। এতে আগেই মতোই বারো মাস পানিশূন্য থাকায় চারপাশে আগাছা ও ময়লা দিয়ে ভরে গেছে পুকুরটি।

স্থানীয়রা বলছেন, যে পুকুরের সারা বছর কোনো পানি থাকে না, সে পুকুরে আগে পানির ব্যবস্থা করার জন্য পুকুরটি খনন করা দরকার ছিল। তারপর আসে শানবাঁধানো ঘাটের প্রশ্ন। অথচ পুরো বিষয়টি উল্টো। শুধু কয়েকজনের লাভালাভের জন্য এই প্রকল্পের কোনো প্রয়োজন ছিল না।

ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী বখতিয়ার হোসেন বলেন, উপজেলা পরিষদের ভেতরে অবস্থিত পুকুরটির উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার সময় তিনি এই স্টেশনে ছিলেন না। এ কারণে তিনি এ বিষয়ে কোনো কিছু সঠিক করে বলতে পারছেন না। তবে এ সম্প্রতি পুকুরটির সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি।

ইউএনও আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, আগে এই স্টেশনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা কীভাবে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে এসব কাজ করেছেন, এ মুহূর্তে এর কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই তাঁর কাছে। তিনি নতুন যোগদান করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে পরে জানাতে পারবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত