Ajker Patrika

শজিমেকের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ অধ্যক্ষের, সব ঠিকঠাক চলছে—বললেন প্রকৌশলী

বগুড়া প্রতিনিধি
আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৭: ৫৪
শজিমেকের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ অধ্যক্ষের, সব ঠিকঠাক চলছে—বললেন প্রকৌশলী
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের (শজিমেক) উন্নয়নকাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ওয়াদুদুল হক তরফদার। এ নিয়ে গত ১৪ ও ১৫ জুলাই গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে দুটি লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন তিনি। তবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলীর দাবি, উন্নয়নকাজে কোনো অনিয়ম নেই। সবকিছু ঠিকমতো চলছে।

১৪ জুলাই পাঠানো অভিযোগে অধ্যক্ষ বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শুরু হওয়া কলেজের অডিটোরিয়াম-কাম-মাল্টিপারপাস হলের নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো তা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জাপান বা ইউরোপীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের ২৫০ কেভিএ ক্ষমতার জেনারেটর সরবরাহের কথা থাকলেও সেখানে চীনে তৈরি ১২০ কেভিএ ক্ষমতার একটি জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে।

একই সঙ্গে স্থাপিত বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনটিও নিম্নমানের ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগপত্রে তুলে ধরেন তিনি।

অপর চিঠিতে অধ্যক্ষ বলেন, কলেজে প্রায় ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৪টি পাঁচ টনের এয়ার কুলার স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সক্ষমতা আগে নিশ্চিত করা হয়নি। পরে প্রায় ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন হাজার কিলোওয়াট ক্ষমতার নতুন সাব-স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়।

অধ্যক্ষের দাবি, কলেজে আগে থেকেই একটি সাব-স্টেশন ও ৫০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ট্রান্সফরমার রয়েছে। নতুন এয়ার কুলার চালাতে আরও ৫০০ কিলোওয়াট সক্ষমতা বাড়ালেই প্রয়োজন মিটত। কিন্তু তার মতামত ও প্রতিস্বাক্ষর ছাড়াই প্রায় সাত কোটি টাকার নতুন সাব-স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এমনকি ওই প্রস্তাবে স্বাক্ষর দিতে তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিষয়টি নিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল মামুন হক বলেন, বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের কাজে কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি নেই। আমি নিজে পরিদর্শন করেছি। সবকিছু ঠিকমতো চলছে।

অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াদুদুল হক তরফদার বলেন, অনিয়মের বিষয়গুলো লিখিতভাবে প্রধান প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা করছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত