Ajker Patrika

আকার ছোট, রং পাল্টে যাচ্ছে ইলিশের

খান রফিক, বরিশাল 
আকার ছোট, রং পাল্টে যাচ্ছে ইলিশের
নদীতে ডুবোচরের কারণে সাগরে ইলিশের যাতায়াত কমে গেছে। এতে ইলিশের আকার ছোট হয়ে যাচ্ছে, বদলে যাচ্ছে রং। এ ছাড়া কমে গেছে ইলিশের উৎপাদনও। গতকাল বরিশাল পোর্ট রোড মৎস্য মোকামে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ইলিশের অভয়াশ্রমে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলো। নদীতে এখন আর মাছ ধরায় বিধিনিষেধ নেই। তবে নদীতে নেমে ইলিশ মিলছে না জেলেদের জালে। মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, নদীতে ডুবোচরের কারণে ইলিশ ছুটতে পারছে না। সাগর আর নদীতে আসা-যাওয়া ব্যাহত হচ্ছে। যে কারণে ইলিশের আকারও ছোট।

গত মার্চ ও এপ্রিল মাস ইলিশের খনি হিসেবে পরিচিত ষষ্ঠ অভয়াশ্রম শরীয়তপুরের গোসাইরহাট, বরিশালের হিজলা ও মুলাদী উপজেলার সীমান্তবর্তী মেঘনা ও তার শাখানদী এবং কীর্তনখোলা নদী মিলিয়ে ৩১৮ বর্গকিলোমিটারজুড়ে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। জাটকা রক্ষাই এর মূল লক্ষ্য। বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর অভয়াশ্রমের আওতায় বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলায় ১৩৮টি মোবাইল কোর্ট, ১ হাজার ২৬৩টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৪ টন ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। মামলা করা হয়েছে ২১৩টি। এত অভিযানের পরও এখন মিলছে না ইলিশ। নদীতে মাছ ধরা না পড়ায় হতাশ জেলেরাও।

মেঘনায় ঘেরা মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়ার জেলে তোফায়েল হোসেন বলেন, দুই মাস নিষেধাজ্ঞা চলায় মাছ ধরতে পারেননি। এখন নদীতে নেমে ইলিশের দেখা নেই। তিনি বলেন, যা-ও পাওয়া যায়, জাটকা অথবা ছোট আকারের ইলিশ। এ ছাড়া দাদনের চিন্তা মাথায়।

বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই-সংলগ্ন বাগরজা এলাকায় কীর্তনখোলার মোহনায় মাছ ধরেন জেলে ফিরোজ গাজী। তিনি বলেন, ‘নদীতে মাছ নেই। ভরে গেছে চরে। ইলিশ তাই এদিকটায় তেমন একটা আসে না।’

জানতে চাইলে হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আলম বলেন, এবার ইলিশের আকার ছোট হয়ে গেছে। সাড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ পাওয়া যায়। এক-দেড় কেজির মতো বড় মাছ নেই।

নদীতে যে কারণে ইলিশ নেই

বরিশাল জেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছি। শুধু নদীতে অভিযান চালিয়ে আর জেল-জরিমানা করে তো ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো যাবে না।’ তাঁর মতে, নদীতে এত বেশি ডুবোচর যে বড় ইলিশ আসতে পারছে না এবং ছোট ইলিশও সমুদ্রে যেতে পারছে না। সমুদ্রে না যেতে পারায় ইলিশের আকার যেমন ছোট হয়ে আসছে, তেমনি ইলিশের রং আগের মতো নেই।

এই কর্মকর্তা বলেন, দেশে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৫ লাখ টন। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩৮ হাজার টন। এই লক্ষ্যমাত্রা ডুবোচরের কারণে এবার হয়তো পূরণ হবে না। কারণ, নদীতে মাছ নেই, বাজারেও নেই। তিনি বলেন, মেঘনাবেষ্টিত হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জে অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন দেখা গেছে চর আর চর। পানিতে স্রোত না থাকলে শুধু ইলিশ নয়, কোনো মাছই বাড়বে না। ইলিশ খরস্রোতা নদীর মাছ। স্রোত বাধাগ্রস্ত হলে ইলিশ বাড়বে না।

বাজারে ইলিশের সংকট

নদীতীরবর্তী এলাকায় কিছু ইলিশ কেনাবেচা হলেও তা বরিশালের বাজারে তেমনটা পৌঁছায় না। তার ওপর দামও চড়া। গতকাল শুক্রবার বরিশাল পোর্ট রোড মৎস্য মোকামে ১০০ মণের কম ইলিশের সরবরাহ হয় বলে জানান মৎস্য আড়তদার জহির সিকদার। তিনি বলেন, গতকাল ১ কেজির ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। ৬০০ থেকে ৯০০ গ্রামের প্রতি কেজি ইলিশ ২ হাজার ৬০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তিনিও বলেন, অভিযান তো শেষ, কিন্তু আমদানি খুবই কম।

সদর উপজেলার তালতলী থেকে আসা ভ্রাম্যমাণ মাছ বিক্রেতা লাল মিয়া বলেন, ইলিশ নেই, যা আছে তার দাম চড়া।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক নাসির উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, দুই বছর ধরে ইলিশের আকার ছোট। ছোট ইলিশ বড় হতে সাগরে কার্যক্রম বাড়াতে হবে। আর নদীতে ইলিশ না থাকার অন্যতম কারণ ডুবোচর ও দূষণ। ডুবোচরের কারণে ইলিশের মাইগ্রেশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইলিশ সম্পদের উন্নয়নে এহেন প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী: শুভেন্দু প্রায় নিশ্চিত, পেতে পারেন দুই ডেপুটি

মির্জা ফখরুল-ফাতেমাসহ আরও যাঁরা পাচ্ছেন খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক

এসিআই মোটরসে চাকরি, থাকছে সপ্তাহে ২ দিন ছুটিসহ নানা সুবিধা

প্রাণ গ্রুপে ৬০ পদে নিয়োগ, ফ্রেশাররাও আবেদন করতে পারবেন

আনসার কর্মকর্তার চোখ থেঁতলে দিলেন হকারেরা, আহত আরও ৫

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত