Ajker Patrika

কাজের তিন দিন পরেই হাতের টানে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

 আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি 
কাজের তিন দিন পরেই হাতের টানে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার তিন দিনেই বিভিন্ন স্থানে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার তিন দিনেই বিভিন্ন স্থানে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, হাত দিয়েই তোলা যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং। তাঁরা সড়কটির নির্মাণকাজে অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের তালবাড়িতে সড়কটির অবস্থান। সড়কটির ৫৪০ মিটার সংস্কারের জন্য ২০২৫ সালের অক্টোবরে ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮শ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। বাবুগঞ্জ উপজেলার মিরগঞ্জ এলাকার মেসার্স সরদার ট্রেডিং নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলার দলিল লেখক মো. জাকির মোল্লা কাজটি পুনরায় ক্রয় করেন। কাজ শুরুর কথা ছিল ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সম্প্রতি বৃষ্টির পরপরই এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের উপস্থিতিতে কার্পেটিং কাজ শেষ করা হয়। কাজ শেষের তিন দিন পরই হাত দিয়ে কার্পেটিং তোলা যাচ্ছে। সড়কটি পরিষ্কার না করে ময়লার মধ্যেই কার্পেটিংয়ের কাজ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পাথরে বিটুমিন কম ব্যবহারের অভিযোগও করেন তারা।

স্থানীয় আলমগীর মোল্লা বলেন, কার্পেটিংয়ের কাজের সময় অনিয়ম নিয়ে আমরা অভিযোগ করলে ঠিকাদারের লোকজন আমাদের ভয়ভীতি দেখায়। তাদের ইচ্ছে মতো কাজ করেছে।

শফিকুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, সড়ক পরিষ্কার না করেই বৃষ্টির পরপর কার্পেটিং করে। তিন দিন পরেই হাত দিয়ে সেই কার্পেটিং তুলে ফেলা যাচ্ছে।

ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ভ্যানচালক রবিউল ইসলাম বলেন, এ দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি ভালো হতো তাহলে দেশ আরও উন্নত হতো, এই রাস্তার কাজও ভালো হতো। আমাদের এই ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হতো না।

কাজ বাস্তবায়নকারী আগৈলঝাড়ার দলিল লেখক জাকির মোল্লা বলেন, ‘বৃষ্টির সময় এক গাড়ি ঢালাইয়ের মাল আসলেও তখন আমি না ঢালার জন্য বাঁধে দিয়েছিলাম।’

কাজের দায়িত্বে থাকা উপজেলা এলজিইডি বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি কাজ শুরু করে দিয়ে ওই স্থান থেকে চলে এসেছি। তারপরে কী হয়েছে আমি জানি না। যে স্থানের কার্পেটিং উঠে গেছে সেই স্থানে পুনরায় কাজ করে দেওয়া হবে।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ‘এই কাজের অনিয়মের ব্যাপারে বরিশাল এলজিইডি বিভাগের কর্মকর্তারা এসে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এখন পর্যন্ত এই কাজের বিল দেওয়া হয়নি। পুনরায় কাজ করে না দিলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত