
বরগুনার উপকূলজুড়ে বিভিন্ন জেলেপল্লিতে অভাব-অনটনের কালো ছায়া পড়েছে। জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে নদ-নদীতে ট্রলার নিয়ে মাছ শিকারে যেতে পারছেন না জেলেরা। ফলে আয়রোজগার বন্ধ তাঁদের। পরিবারের সদস্যদের মুখে দুই বেলা ভাতের জোগাড় করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে তাঁদের জন্য। জেলেরা বলছেন, জ্বালানি তেলের অভাবে প্রায় ১৫ দিন ধরে ট্রলার ভাসাতে না পেরে তাঁদের সংসার চালানো অনেক কষ্টের হয়ে পড়েছে। আজ মঙ্গলবার এক মানববন্ধন করে জেলেরা তাঁদের ক্ষোভ ও দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন। আজ বেলা ১১টায় বরগুনা সদরের বদরখালী ইউনিয়নের বাওয়ালকর খেয়াঘাট এলাকায় খালের মধ্যেই বন্ধ থাকা ছোট ছোট ট্রলারে দাঁড়িয়ে জেলেরা জ্বালানি তেল পাওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে জেলেরা জানান, মোটরসাইকেল, বাস-ট্রাক বা অন্যান্য যানবাহন চালিয়ে অনেকে পাম্পে গিয়ে তেল নিতে পারেন, কিন্তু তাঁদের ট্রলারগুলো পাম্পে নেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে জেলেদের ৫ বা ১০ লিটারের বোতল পাম্পে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু পাম্প কর্তৃপক্ষ বোতলে তেল না দেওয়ায় জেলেরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রায় ১৫ দিন ধরে তেল না পাওয়ায় ট্রলার নিয়ে মাছ শিকারে যেতে পারছেন না তাঁরা। আয়রোজগার বন্ধ থাকায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তাঁদের। জেলেদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পাম্প থেকে তাঁদের ৫ বা ১০ লিটারের কনটেইনার বোতলে তেল পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলে তাঁরা মাছ শিকারে যেতে পারবেন।
জেলার একটি মাত্র তেলের পাম্প এসঅ্যান্ডবি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে জানা গেছে, জেলেদের ট্রলার অথবা কৃষিকাজের জন্য সেচপাম্প চালাতে জ্বালানি তেল সরবরাহের কোনো নির্দেশনা পাম্প কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়নি। ফলে তারা জেলেদের ট্রলার কিংবা কৃষিকাজে ব্যবহৃত ইঞ্জিনের জন্য বোতলে তেল দিচ্ছে না।
জেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলায় ৪৬ হাজার ৪২১ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৭ হাজার ২৫০ জন সমুদ্রগামী জেলে। এ ছাড়া জেলার নদ-নদীগুলোয় ১০ হাজারের বেশি ছোট ছোট শ্যালো ইঞ্জিনচালিত জেলে নৌকা চলাচল করে।
আজ সকালে বাওয়ালকর এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকায় বিষখালী নদীতে ৮০টির বেশি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ছোট জেলে নৌকা চলাচল করে। ওইসব নৌকায় জেলেরা মাছ শিকার করে তাঁদের জীবিকা নির্বাহ করেন। তেল না পাওয়ায় এখন সবগুলো নৌকা একটি খালের মধ্যে নোঙর করে রেখেছেন জেলেরা। গত ১৫ দিন ধরে মাছ শিকার করতে না পারায় বিপাকে পড়েছে ওই এলাকার জেলে পরিবারগুলো।
এই চিত্র শুধু বাওয়ালকর এলাকার নয়। জ্বালানি সংকটে জেলার ছয়টি উপজেলার পায়রা, বলেশ্বর আর বিষখালী নদীর তীরের অসংখ্য জেলে নৌকার চলাচল থেমে আছে।
বাওয়ালকর এলাকার জেলে মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আমাদের ছোট বোটের জন্য আমরা পাম্পে গিয়ে তেল পাই না। সব গাড়ি তেল পায়। ওরা গাড়ি নিয়া পাম্পে যেতে পারে, আমরা পারি না, তাই তেলও পাই না। পাম্প নিয়ম করছে, কোনো বোতলে তেল দিবে না। তাই তেল না থাকায় আমাদের বোটগুলো বন্ধ রয়েছে। আমরা নদীতে যেতে পারছি না। মাছ না ধরলে আমাদের ঘরে খাবারও জোটে না। এই ১৫ দিন ধরে আমরা খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।’
বাওয়ালকর এলাকার মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার এলাকায় প্রায় ১৫০ জন জেলে রয়েছে। ডিজেলের অভাবে তারা এখন নদীতে মাছ ধরতে পারছে না। ছেলেমেয়ে নিয়ে জেলেরা এখন না খেয়ে থাকছে। সরকারের উচিত, জেলে কার্ড দেখিয়ে জেলেরা যাতে পাম্প থেকে তেল নিতে পারে, সে ব্যবস্থা করে দেওয়া।’
এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সমুদ্রগামী জেলেদের ট্রলারগুলোয় তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জেলার অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে মাছ শিকারে নিয়োজিত ছোট ছোট শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ট্রলারের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে অচিরেই তাঁদের ট্রলারগুলোয় তেল সরবরাহ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১৭ সালে ব্রহ্মপুত্রের পূর্বপাড়ে এটি গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে জনবলসংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে শতাব্দীপ্রাচীন স্টেশনটির ভগ্নদশা। স্থানীয়দের দাবি, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উন্নত অবকাঠামো দিয়ে এই পুরোনো স্টেশনটিকে অত্যাধুনিক করা
১ ঘণ্টা আগে
পূর্ব সুন্দরবনে মধু আহরণের মৌসুম শুরু হলেও চলতি বছর আশানুরূপ উৎপাদন না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বনদস্যুদের আতঙ্কে অনেক মৌয়াল সুন্দরবনে যেতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ মাঝপথেই ফিরে আসছেন।
১ ঘণ্টা আগে
দেশের ব্যস্ততম সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এই সড়কে এখন বইছে বসন্তের বাতাস। বাস্তবিক অর্থেই ফুলে ফুলে ভরে গেছে এই মহাসড়ক। সড়ক বিভাজকে লাগানো গাছে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রামের শেষ প্রান্ত মোহাম্মদ আলী পর্যন্ত প্রায় ১০৫ কিলোমিটারজুড়ে ফুটেছে রাধাচূড়া।
১ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর উত্তরায় ঢাকঢোল পিটিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান চালিয়েও কোনো কাজে আসেনি। উচ্ছেদ অভিযানের আগে যে অবস্থা ছিল, এখন আবার সেই একই অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরেজমিনে এ চিত্র দেখা গেছে।
২ ঘণ্টা আগে