Ajker Patrika

মোংলা বন্দরের ইনারবার খনন প্রকল্প: এক বছরের কাজ পাঁচ বছরে

  • প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ১৬৮ কোটি টাকা।
  • খননের কাজ পায় চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান সিইসি ইসিজি ও জেএইচ সিইসি
  • বানিয়াশান্তা এলাকায় বালু ফেলতে গিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়
সুমেল সারাফাত, মোংলা (বাগেরহাট) 
মোংলা বন্দরের ইনারবার খনন প্রকল্প: এক বছরের কাজ পাঁচ বছরে
খননের বালু মোংলার জয়মণি এলাকায় ফেলা হচ্ছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলায় ইনারবার খননকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের মার্চ মাসে। খননকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ৩০ জুন। কিন্তু ডাম্পিং (খননের বালু ফেলা) জটিলতায় সেই খননকাজ চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে প্রকল্পের ব্যয় ১৬৮ কোটি টাকা বেড়ে গেছে ।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ১৩১ কিলোমিটার উজানে পশুর নদের পূর্ব তীরে মোংলা বন্দর অবস্থিত। বন্দরের প্রবেশমুখ থেকে চ্যানেলের হাড়বাড়িয়া পর্যন্ত নৌপথ বন্দরের আউটারবার নামে পরিচিত। আর হাড়বাড়িয়া থেকে বন্দর জেটি পর্যন্ত নৌপথ হলো ২৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার, যেটি বন্দরের ইনারবার নামে পরিচিত। বন্দরের জেটিতে সহজে ৯ থেকে ১০ ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানোর লক্ষ্যে পশুর নদে ৭৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালের ১৩ মার্চ ইনারবার খননকাজ শুরু করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। খননের কাজ পায় চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান সিইসি ইসিজি ও জেএইচ সিইসি। এ প্রকল্পে ২ কোটি ৩৭ লাখ ঘনমিটার বালু উত্তোলন করার কথা।

মোংলা বন্দরের ইনারবার খনন প্রকল্পের পরিচালক ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল ও হাইড্রোলিক্স বিভাগ) শেখ শওকত আলী বলেন, ইনারবার খননের বালু ফেলার জন্য ১ হাজার ৫০০ একর জমির প্রয়োজন হলে ৫০০ একর খাসজমি এবং মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মণি এলাকার ৭০০ একর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি এবং পশুর নদের পশ্চিম পাড় খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিয়াশান্তা এলাকায় আরও ৩০০ একর জমি নির্ধারণ করা হয়।

শওকত আলী বলেন, খননকাজ শুরুর পর মোংলা উপজেলায় ও খাসজমিতে বালু ফেলা নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। সমস্যা সৃষ্টি হয় দাকোপ উপজেলার বানিয়াশান্তা এলাকায় ৩০০ একর জমিতে বালু ফেলতে গিয়ে। সেখানের গ্রামবাসীকে ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনের নামে একটি কুচক্রী মহল ওই জমিতে খননের বালু ফেলতে ক্রমাগত বাধার সৃষ্টি করে। এতে করে খনন নিয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ফলে ধীরগতি নেমে আসে খননকাজে। ইনারবার খনন প্রকল্পের পরিচালক আরও বলেন, ২০২৪ সালের শেষের দিকে পশুর চ্যানেলের ইনারবার খননের বালু রাখার সংকট কেটে যায়। নতুন করে মোংলা উপজেলার খাসজমিতে বালু ফেলার জায়গা পাওয়ার পর খননকাজ আবার নতুন উদ্যমে শুরু করা হয়। শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন করতে পেরেছে চায়না ঠিকাদারি দুটি প্রতিষ্ঠান। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ধারণা ছিল, শুরু থেকে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে সময় লাগবে মাত্র এক বছর। ২০২১ সালের ১৩ মার্চ শুরু হওয়া এ কাজটি ২০২২ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল। চলমান কাজের মধ্যে ডাম্পিংয়ে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় ড্রেজিংয়ে ধীরগতি নেমে আসে। এরপর খনন করা জায়গায় অতিরিক্ত পলি জমাট হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৯৬২ কোটি টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল সংকটের পরও আমরা চেষ্টা করছি, চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে ইনারবার প্রকল্পের খননকাজ শেষ করতে।’

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন রফিক বলেন, মোংলা বন্দরের ইনারবার খনন সম্পন্ন হলে কনটেইনারবাহী জাহাজসহ ১০ ফুট ড্রাফটের জাহাজ সহজে মোংলা বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারবে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমবে। মোংলা বন্দরে জাহাজ আনার ব্যাপারে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হবেন।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন উপব্যবস্থাপক মাকরুজ্জামান বলেন, মোংলা বন্দরের একটি মেগা প্রকল্প ইনারবার খনন। বিভিন্ন সমস্যায় এই প্রকল্পের খননকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায়নি। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সার্বিকভাবে মোংলা বন্দরের জেটিতে জাহাজ আসার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। বন্দরের আয়ও বাড়বে। সেই সঙ্গে বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, ‘ইনারবার খননের মূল প্রকল্প শেষ হলে এরপর নাব্যতা ধরে রাখার জন্য আমরা মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং চালু করব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত