Ajker Patrika

বক-সারস-পানকৌড়ির মিতালি

  • তাফালবাড়ী গ্রামটি ‘পাখির গ্রাম’ হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ
  • প্রায় ১০ বছর ধরে দুটি বাগানবাড়িতে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বাস
ফরিদ খান মিন্টু, শরণখোলা (বাগেরহাট) 
বক-সারস-পানকৌড়ির মিতালি
একই গাছে বাসা বেঁধে বসবাস বক, সারস, পানকৌড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির। সম্প্রতি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সুন্দরবনসংলগ্ন তাফালবাড়ী গ্রামে। ছবি: আজকের পত্রিকা

একই গাছের ডালে পাশাপাশি অসংখ্য বাসা। কোনো বাসায় বক, কোনো বাসায় সারস, কোনোটায় পানকৌড়ি। সঙ্গে রয়েছে বাদুড়সহ নানা প্রজাতির পাখি। প্রতিটি গাছে ভিন্ন প্রজাতির পাখির বসবাস হলেও নেই কোনো দ্বন্দ্ব, খাবার নিয়ে বিরোধ কিংবা বাসা দখলের লড়াই। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এমন বিরল দৃশ্য দেখা মিলছে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সুন্দরবনসংলগ্ন তাফালবাড়ী গ্রামে।

তাফালবাড়ী গ্রামের দীপক দাস ও কামরুল ইসলামের পাশাপাশি দুটি বাগানবাড়ি প্রায় এক দশক ধরে হয়ে উঠেছে নানা প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাসস্থল। বাড়ি দুটিতে রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গাছগাছালি। বছরের অধিকাংশ সময়ই এসব গাছে পাখিদের আনাগোনা দেখা যায়। বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে বেড়ে যায় পাখির সংখ্যা। পুরোনো বাসার পাশাপাশি এ সময় নতুন নতুন বাসা তৈরি করে ডিম পাড়ে পাখিরা। সেই ডিম থেকে জন্ম নেয় নতুন প্রজন্ম।

ভোরের আলো ফোটার আগেই খাবারের সন্ধানে বিভিন্ন দিকে উড়ে যায় পাখিরা। সারা দিন খাবার সংগ্রহ শেষে বিকেলে ছানাদের জন্য খাবার নিয়ে ফিরে আসে নিজেদের বাসায়। সন্ধ্যার আগেই আবার সবাই ফিরে আসে আপন ঠিকানায়। পাখিদের কলকাকলি ও ছানাদের কিচিরমিচিরে সকাল-বিকেল মুখর থাকে বাড়ি দুটি ও আশপাশের এলাকা। দূর থেকে মনে হয়, যেন গ্রামজুড়ে বসেছে পাখিদের মিলনমেলা।

স্থানীয়রা জানান, এ বছর বক, পানকৌড়ি ও বাদুড়ের পাশাপাশি নতুন অতিথি হিসেবে দেখা মিলেছে বিরল পাখি মদনটাকের। মদনটাক এখানে স্থায়ীভাবে বাসা না বাঁধলেও সুন্দরবন কাছাকাছি হওয়ায় মাঝে মাঝে এসে গাছের মগডালে বসে। বিরল এই পাখির দেখা মেলায় প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে বেড়েছে আগ্রহ।

বাড়ির মালিক দীপক দাস ও কামরুল ইসলাম জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে তাঁদের বাড়িতে পাখিরা বাসা বেঁধে বসবাস করছে। কেউ কখনো পাখিদের বিরক্ত করেন না। বিক্রি উপযোগী অনেক গাছ থাকলেও পাখিদের কথা চিন্তা করে সেগুলো কাটা বা বিক্রি করা হয় না।

শরণখোলা বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলাম বলেন, তাফালবাড়ী এলাকাটিকে ‘পাখির গ্রাম’ হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাখি সংরক্ষণে একটি কমিটি গঠনের পাশাপাশি গাছে গাছে বিকল্প বাসা তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে কাজ শুরু করা হবে।

ওয়াইল্ড টিমের শরণখোলা ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মো. আলম হাওলাদার বলেন, তাফালবাড়ীর দুটি বাড়ি পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল হয়ে ওঠায় মানুষ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, শুধু তাফালবাড়ীর দুটি বাড়িই নয়, পাখি সংরক্ষণে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত