Ajker Patrika

দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত কৃষক দল নেতার দাফন সম্পন্ন, জামায়াতের ৩ কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ

বাগেরহাট প্রতিনিধি
আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ২২: ৪৯
দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত কৃষক দল নেতার দাফন সম্পন্ন, জামায়াতের ৩ কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ
আড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়লের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়লের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে আড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এর আগে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে বারুইপাড়া থেকে মোটরসাইকেলযোগে ফকিরহাট যাওয়ার পথে নিয়তির মাঠ এলাকায় দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত হন কৃষক দল নেতা বাদল মোড়ল। এ সময় বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মোড়ল গুরুতর আহত হন।

বাদলের জানাজায় বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোজাফফর রহমান আলম, বিএনপি নেতা খান মনিরুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান টুটুল, জেলা কৃষক দলের সভাপতি আসাফুদৌলা জুয়েলসহ কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন।

জানাজায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম গোরা বলেন, ‘গুপ্তরা বাদল মোড়লকে হত্যা করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর বিচার হতে হবে।’

খান মনিরুল ইসলাম বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস সময়ক্ষেপণ করতে পারবে না। আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রশাসনের সক্ষমতা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। তা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এদিকে কৃষক দল নেতার হত্যার বিচারের দাবিতে আজ দুপুরে বারুইপাড়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এই ঘটনায় বিএনপির ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা জামায়াতে ইসলামীর তিনটি স্থানীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বারুইপাড়া জামায়াত কার্যালয় ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ইউনিয়ন কার্যালয়ে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর আগে ভোরে আড়পাড়া গ্রামে ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বারুইপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির শেখ মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘বারুইপাড়া বাজারে আমাদের দুইটা অফিস—একটি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অফিস আর একটি জামায়াতের। সোমবার দুপুর দেড়টা-দুইটার দিকে বিএনপির একদল নেতা-কর্মী এসে ওই দুটি অফিসই ভেঙে তছনছ করে। হামলার আগে আমাদের অফিসের বিপরীতে থাকা একটি এজেন্ট ব্যাংকের সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে ফেলে তারা। আর গতকাল রাতে বাদল ভাইকে হত্যার পর একদল লোক আড়পাড়ার জামায়াতের কার্যালয়টি ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে দেয়।’

অভিযোগের বিষয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ নাসির আহমেদ মালেক বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে সামান্য কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে আজ কোথাও কোনো ভাঙচুর বা সহিংসতা হয়নি। আমরা নেতা-কর্মীদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দিয়েছি, কেউ কোনো প্রকার আইনবিরোধী কাজ করতে পারবে না। আইন হাতে তুলে না নিতে নেতা-কর্মীদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনবে।’

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাগেরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা রেজাউল করিম। বিবৃতিতে তিনি বলেন, এলাকায় শান্তি, নিরাপত্তা ও আইনের শাসন বজায় রাখতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরেফিন বলেন, ‘ভাঙচুরের কথা আমরা শুনেছি। তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানাজা শেষে সন্ধ্যায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে।’

ফকিরহাট মডেল থানার ওসি শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে হত্যাকারীদের শনাক্তে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত