
পটুয়াখালীর দশমিনায় তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে গত ২০ থেকে ২৫ বছরে দুই শতাধিক কবর, কৃষিজমি ও বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। সর্বশেষ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে হাজির হাট এলাকার উত্তর পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের দুটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এতে কয়েকটি ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও কবরস্থান প্লাবিত হয়। এ ঘটনায় হাজির হাট রক্ষার দাবিতে গতকাল বুধবার দুপুরে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, তেঁতুলিয়া নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে মঙ্গলবার রাতে দশমিনা সদর ইউনিয়নের হাজির হাট এলাকার বেড়িবাঁধের দুটি অংশে ফাটল দেখা দেয়। একপর্যায়ে বাঁধের ওই অংশ নদীতে বিলীন হয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এতে এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভাঙনের তীব্রতা দেখে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। জননিরাপত্তায় থানা-পুলিশ ও নৌ পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
রাতে বেড়িবাঁধের দুটি অংশ নদীতে বিলীন হওয়ার পর পানি ঢুকে কৃষিজমি, কবরস্থান ও কয়েকটি বসতঘর আংশিক প্লাবিত হয়। বুধবার সকালে স্থানীয়রা পানিতে আটকে পড়া কয়েকটি পরিবারের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেন। এ সময় একটি কবরস্থান থেকে সম্প্রতি দাফন করা একটি মরদেহও অন্যত্র নিয়ে পুনরায় দাফন করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
বুধবার দুপুরে হাজির হাট রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বলেন, গত ২০ থেকে ২৫ বছরে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে তাঁদের পূর্বপুরুষদের কবরস্থান, কৃষিজমি ও বসতভিটা বিলীন হয়েছে। নদীভাঙনের কারণে হাজির হাট ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নিজামউদ্দিন সুজালক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘১৫-২০ বছর ধরে হাজির হাট এলাকা তেঁতুলিয়ার গ্রাসে ছোট হয়ে গেছে। তেঁতুলিয়া নদী আমাদের পূর্বপুরুষদের কবরস্থানও গ্রাস করেছে। গত রাতে বেড়িবাঁধ ভেঙে গভীর রাতে পানি ঢুকে পড়ে। বুধবার সকালে একটি কবরস্থান থেকে দাফন করা দুটি মরদেহ অন্যত্র নিয়ে পুনরায় দাফন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘নদীভাঙন নিয়ে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বহুবার মানববন্ধন করেছি। আজ আমাদের শেষ আশ্রয়স্থলও হারানোর পথে। আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই।’
পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে এ বিষয়ে তাঁরা উপজেলা প্রশাসন বা স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি বলে জানা গেছে।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘তেঁতুলিয়া নদীর আগ্রাসন থেকে হাজির হাটসহ ভাঙনকবলিত এলাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সঠিক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আকস্মিক ভাঙনে এলাকার কোনো মানুষের শারীরিক ক্ষতি হয়নি। এলাকার লোকজন সারা রাত সজাগ থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করায় তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক আজকের পত্রিকাকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আকস্মিক তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে হাজির হাট এলাকার সব মানুষের প্রতি সমবেদনা জানাই। খবর পেয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবকে বিষয়টি অবহিত করেছি। নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়া বেড়িবাঁধ সংস্কারে দ্রুত কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি এবং ঠিকাদারদের অনিয়ম ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি ও হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসকে কঠোর নির্দেশনা দেন এডিজি। তিনি বলেন, ঠিকাদারদের এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
২৫ মিনিট আগে
জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘এসএসসি পাসের পর থেকেই সালমান বেকার। গত চার-পাঁচ বছরে সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। নেশার টাকা না দিলে বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করে। এর আগে কয়েকবার তার মাকে মারধর করেছে। আমাকেও শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা করে প্রতিনিয়ত। বাড়ি ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।’
৩৪ মিনিট আগে
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিত সরকার (২২) নামের এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বৃহস্পতিবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জিত সরকার কলেজের...
৩৯ মিনিট আগে
সুন্দরবনের কুখ্যাত নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ বনদস্যু কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মোংলায় কোস্ট গার্ড বেজে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁরা আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ওয়াকিটকি জমা দেন তাঁরা...
১ ঘণ্টা আগে