Ajker Patrika

এলজিইডির সড়কের গাইডওয়াল নির্মাণ: শিবচরে কলাগাছের ওপর ইটের গাঁথুনি!

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৮: ৪৭
এলজিইডির সড়কের গাইডওয়াল নির্মাণ: শিবচরে কলাগাছের ওপর ইটের গাঁথুনি!
গাইড ওয়ালে ইটের গাঁথুনির নিচে দেওয়া হয়েছে আস্ত কলাগাছ। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে নির্মাণাধীন সড়কের গাইডওয়ালে ইটের গাঁথুনির নিচে দেওয়া হয়েছে আস্ত কলাগাছ। অর্থাৎ শক্ত মাটি বা কংক্রিটের বিম তৈরি না করে কলাগাছ দিয়ে বিমের মতো বানিয়ে তার ওপর ইটের গাঁথুনি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে পড়লে তাঁরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। শিবচরের শিরুয়াইল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাকইর চৌরাস্তা মোড়ে এই ঘটনা ঘটে।

শিবচর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের সাদেকাবাদ হয়ে সিপাইকান্দি থেকে মুন্সীকান্দি গ্রাম পর্যন্ত সড়কের গাইডওয়াল নির্মাণকাজ শুরু হয় ছয় মাস আগে। কিন্তু শুরু থেকেই নির্মাণকাজে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ছাড়াও মাটির ওপর কলাগাছ রেখে, গাছের ওপর ইটের গাঁথুনি দিয়ে নির্মাণকাজ করতে থাকেন ঠিকাদার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন সড়কের চরকাকইর এলাকার মসজিদের সামনে যে গাইডওয়ালের নির্মাণকাজ চলছে, সেখানে ইটের গাঁথুনির নিচে বেশ কয়েক স্থানে কলাগাছ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এলাকার সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক ব্যবহার করে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা সদরসহ সারা দেশে যাতায়াত করেন। গাইডওয়ালের নিচে কলাগাছ দেওয়া ছাড়াও সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করা হয়েছে। এই নির্মাণকাজের অনিয়মের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি।’

বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদার আলমগীর জমাদ্দার বলেন, ‘আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। যে রাজমিস্ত্রি কাজ করে, তাকে বলেছি এমন কাজ কেন করা হলো? আমি তাকে এমন কিছু করতে বলিনি।’

কাজের স্থানে যেসব মালপত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, তা গুণগত মানসম্পন্ন দাবি করে ঠিকাদার বলেন, ‘আমি কলাগাছ সরিয়ে ফেলে সঠিক নিয়মে কাজ করে দেব।’

শিবচর উপজেলা এলজিইডি উপসহকারী প্রকৌশলী জামাল শিকদার বলেন, ‘নির্বাচনের পর অফিস খোলার পর আর ওই স্থানে যাওয়া হয়নি। গাইডওয়াল নির্মাণ বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হয়নি। এই সুযোগে অনিয়ম হয়েছে। আমরা কলাগাছ সরিয়ে ফেলে নতুন করে কাজ করাব।’

বিষয়টি জানতে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওই কাজ এখন ঠিক হয়ে গেছে।’

এ বিষয়ে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মকর্তা (এলজিইডি) বাদল চন্দ্র কীর্তনিয়া বলেন, ‘আমি শিবচর উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছি। সরকারি কাজে এমন গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। আমি ঘটনাটি দেখছি।’

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ‘গাইডওয়ালের ইটের গাঁথুনির নিচে কলাগাছ, তা কোনোভাবেই মানা যায় না। আমি উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত