Ajker Patrika

টানা বর্ষণে আবারও ভাঙনের মুখে সাতছড়ির ত্রিপুরাপল্লি

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 
টানা বর্ষণে আবারও ভাঙনের মুখে সাতছড়ির ত্রিপুরাপল্লি
সাতছড়ির ত্রিপুরাপল্লি এলাকার মাটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আবারও ভাঙনের মুখে পড়েছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান-সংলগ্ন ত্রিপুরাপাড়া ও বন এলাকা। প্রচণ্ড আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অতীতে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির কারণে এলাকার মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাঁদের দাবি, জায়গাটি রক্ষা করতে জরুরি ভিত্তিতে গাইড ওয়াল নির্মাণ, তীর সংরক্ষণ ও স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক। বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ১৫ বছরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন করেও তাঁদের বসতভিটা রক্ষায় স্থায়ী কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়নি। প্রতি বর্ষায় নতুন নতুন এলাকা বিলীন হচ্ছে। গত ১০ বছরে অন্তত পাঁচটি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে আরও কয়েকটি বাড়ি চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

ত্রিপুরাপাড়ার হেডম্যান (পাড়াপ্রধান) চিত্র দেববর্মা জানান, ভাঙনরোধে উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বহুবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের কাছেও বিষয়টি বারবার তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। সাময়িক আশ্বাস মিললেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ দেববর্মাসহ অন্যরা জানান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ এবং জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। অথচ এর পাশেই বসবাসরত ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষ বছরের পর বছর ভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে জীবন যাপন করছেন। বিভিন্ন সময় বন ও টিলা-বিধ্বংসী বিভিন্ন কাজের কারণে ভাঙনের প্রবণতা বাড়লেও এসব বন্ধে কেউ পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

সমীরণ নামের এক বাসিন্দা জানান, বাপ-দাদার ভিটেমাটি হারাতে চান না তিনি। সরকার যেন দ্রুত গাইড ওয়াল নির্মাণ করে তাঁদের বসতভিটা রক্ষার ব্যবস্থা করে।

এ বিষয়ে সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী মাসুদ জানান, ভাঙনের বিষয়টি বন বিভাগের নজরে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদন প্রশাসনের নজরে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল জানান, বিষয়টির ব্যাপারে তিনি অবগত। যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে তিনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত