Ajker Patrika

ঈদের ছুটিতে আমের বাজার এলোমেলো

রিমন রহমান, রাজশাহী
ঈদের ছুটিতে আমের বাজার এলোমেলো
বাজারে উঠেছে গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাতি আম। দরদাম চলছে চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে। গতকাল দুপুরে রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজারে। ছবি: মিলন শেখ

ঈদের ছুটির প্রভাব পড়েছে রাজশাহীর আমের বাজারে। গুটি আমের দাম কমতে কমতে ৭০০ টাকা মণে ঠেকেছে। গোপালভোগ আটকে আছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। তবে হিমসাগরের দাম বাড়তি। শুরুতেই এ আমের মণ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে আমের বাজার এলোমেলো হয়ে গেছে।

রাজশাহীতে আমের সবচেয়ে বড় মোকাম পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে। গতকাল রোববার সকালে এই হাটে গিয়ে দেখা গেছে, চাষিরা ভ্যানে আমের ক্যারেট সাজিয়ে হাটে আসছেন। বানেশ্বরের আড়তদারেরা এই আম ভ্যানের ওপর থেকেই কিনছেন। নতুন কোনো ভ্যান এলেই ব্যবসায়ীরা সেদিকে গিয়ে দু-চারটি আম দেখছেন। তারপর দাম বলছেন। বাজার বুঝতে চাষিরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করছেন। একটা পর্যায়ে আম ছেড়ে দিচ্ছেন।

এভাবে মণপ্রতি গোপালভোগ আম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

অথচ গত ২২ মে প্রথম গোপালভোগ বাজারে এলেই দাম উঠেছিল ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। ১৫ মে থেকে বাজারে আসছে সব ধরনের গুটি জাতের আম। তখন এর দাম ছিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। এই আম গতকাল ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। ২৫ মে থেকে বাজারে উঠছে রানিপছন্দ ও লক্ষ্মণভোগ। বাজারে রানিপছন্দ আম খুব কম। লক্ষ্মণভোগ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে। গত বছর এই সময়ে লক্ষ্মণভোগের দাম দেড় হাজারের নিচে নামেনি। এবার ৩০ মে থেকে আসছে ক্ষীরশাপাতি বা হিমসাগর। গতকাল এই আম ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।

হাটে কথা হয় পুঠিয়ার ভুবননগর গ্রামের আমচাষি জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে। প্রায় ২০ বিঘা জমিতে আমবাগান আছে তাঁর। তিনি বলেন, এক মণ গুটি আম এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। সার দিতে হয়, কয়েকবার কীটনাশক দিতে হয়। শ্রমিক খরচও অনেক। এত খরচ করে লাভ তো দূরের কথা, খরচও উঠছে না।

চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোরবানির ঈদ থাকায় ক্রেতাদের আগ্রহ কিছুটা কমেছে আম নিয়ে। বিশেষ করে পরিবহন সেবা প্রায় বন্ধ থাকায় ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে আম পাঠানো বন্ধ হয়ে পড়েছিল। আর এ কারণেই পড়ে গেছে আমের বাজার।

বানেশ্বরের হাটে গোপালভোগ কিনতে আসা ব্যবসায়ী হযরত আলী বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার দাম অনেক কম। গত বছর এই সময় গোপালভোগের মণ ছিল প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকা। এবার সেটা অনেক কম।

একই ধরনের কথা বলেন ব্যবসায়ী মো. রনি। তাঁর মতে, কোরবানির ঈদ আমের বাজারে প্রভাব ফেলেছে। রনি বলেন, মানুষ এখন কোরবানির মাংস নিয়ে ব্যস্ত। ফলে আম কেনার দিকে আগ্রহ কম। গতবার কোরবানি আরও পরে ছিল, তখন বাজারে ভালো চাহিদা ছিল। এবার বাজার এলোমেলো।

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আমগাছি গ্রাম থেকে আম নিয়ে এসেছেন আজিবুর রহমান। তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে গোপালভোগ বিক্রি করছেন। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে শ্রমিক খরচ, পরিবহন ব্যয় আর বাগানের পরিচর্যার টাকা মিটিয়ে লাভ থাকছে না। তিনি বলেন, ‘এবার ঈদের ছুটিতে গোপাল (গোপালভোগ) পড়ে গেছে। গোপালের কপাল খারাপ। এই দামে আম বিক্রি করা মানে লস।’

হাটের ব্যবসায়ী মো. সাগর বলেন, প্রতি ঈদেই আমের বাজার একটু খারাপ হয়। ঈদ শেষে ঠিক হয়ে যায়। যাঁরা ঢাকায় থাকেন, তাঁরা ঈদ শেষে ফিরছেন। যাওয়ার সময় আম কিনছেন। এ জন্য খুচরা বাজারটা একটু বেশি। তবে কুরিয়ার সেবা ও পরিবহন বন্ধ থাকায় পাইকারি বাজার এখনো কম। দু-এক দিনের মধ্যে হয়তো স্বাভাবিক হবে। তখন দাম বাড়বে।

রাজশাহীতে এ বছর ১০ জুন থেকে ব্যানানা ম্যাংগো ও ল্যাংড়া; ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি; আগামী ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা ও ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া পাকলে সারা বছরই কাটিমন ও বারি আম-১১ পাড়া যাবে।

রাজশাহীতে এ বছর ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমির আমবাগান থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ টন আম উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলার উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, এবার রাজশাহীতে আমের মৌসুমে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়নি। তাই বেশির ভাগ মুকুলই টিকে গেছে। এ জন্য আমের উৎপাদনও ভালো হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বেশি। দাম নিয়েও সে রকম কোনো সমস্যা হয়নি। দাম যেটা থাকা দরকার, তেমনই আছে বলে দাবি নাসির উদ্দিনের।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত