Ajker Patrika

এজলাসে অসদাচরণ: শরীয়তপুরের সেই পিপি কামরুল হাসানকে শোকজ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
এজলাসে অসদাচরণ: শরীয়তপুরের সেই পিপি কামরুল হাসানকে শোকজ
শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন না করা, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া এবং বিচার চলাকালে অসদাচরণের অভিযোগে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের জিপি-পিপি শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত নোটিশটি দেওয়া হয়।

শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নোটিশে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলাগুলোর সুষ্ঠু ও দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের যথাসময়ে আদালতে উপস্থিত করা এবং বিচার কার্যক্রমে সহযোগিতা করা পিপির দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রাপ্ত কাগজপত্র ও ২১ সেপ্টেম্বর দৈনিক আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পিপি কামরুল হাসানের দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে পিপি কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের নির্ধারিত তারিখে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা উপস্থিত থাকলেও তাঁদের আদালতে উপস্থাপন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

কারণ দর্শানোর নোটিশ। ছবি: সংগৃহীত
কারণ দর্শানোর নোটিশ। ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, আদালতের কার্যক্রম চলাকালে পিপি কামরুল হাসানের আচরণ ও বক্তব্য আদালতের শৃঙ্খলা, মর্যাদা ও ভাবমূর্তির পরিপন্থী এবং তাঁর পেশাগত আচরণের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ছিল।

নোটিশে আরও বলা হয়, প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কেন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে সিনিয়র সহকারী সচিবের কাছে ব্যাখ্যা দাখিল করতে বলা হয়েছে।

নোটিশের অনুলিপি শরীয়তপুরের জেলা ও দায়রা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের বক্তব্য জানতে তাঁর চেম্বারে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

২১ সেপ্টেম্বর দৈনিক আজকের পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ‘শরীয়তপুরে এজলাসে পিপির অসদাচরণ, নেমে গেলেন বিচারক’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরদিন, ২২ সেপ্টেম্বর পত্রিকাটির ছাপা সংস্করণে ‘এজলাসে পিপির কটু মন্তব্য, নেমে গেলেন বিচারক’ শিরোনামে একই ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলার সাক্ষী হাজিরাকে কেন্দ্র করে বিচারক ও এক আইনজীবীর সঙ্গে পিপি কামরুল হাসানের অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও মামলার পক্ষগুলোর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময় বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান বিচারকার্য স্থগিত রেখে এজলাস থেকে নেমে যান।

ঘটনাটি ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এজলাসে বিচারকার্য চলার সময় ঘটে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত