Ajker Patrika

জাপানে পাঠানোর নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ, পাসপোর্ট আটকে বিপাকে ২০ পরিবার

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৪৩
জাপানে পাঠানোর নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ, পাসপোর্ট আটকে বিপাকে ২০ পরিবার
উপজেলার ধুরাইল কাউলারা মাঠে আয়োজিত মানববন্ধন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে জাপানে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন বুনেছিলেন যুবক সোহেল রানা। সুদে ঋণ নিয়ে ও জমি বন্ধক রেখে দালালের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ৫ লাখ টাকা। বিনিময়ে তাঁর হাতে ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও তুলে দেওয়া হয়েছিল। বিদেশযাত্রার প্রস্তুতি হিসেবে সোহেল স্বজনদের কাছ থেকে বিদায়ও নিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে দালালের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এর মধ্যে ভিসা ও কাগজপত্র যাচাই করে সোহেল জানতে পারেন, সবই ভুয়া।

শুধু সোহেল রানাই নন, এই চক্রের প্রতারণায় চরম বিপাকে পড়েছেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার অন্তত ২০টি পরিবার। সর্বস্ব হারিয়ে পরিবারগুলো এখন প্রায় নিঃস্ব। এমনকি দালালচক্র পাসপোর্ট আটকে রাখায় অন্য কোনো দেশে যাওয়ার সুযোগও বন্ধ হয়ে গেছে ভুক্তভোগীদের।

আজ সোমবার বিকেলে উপজেলার ধুরাইল কাউলারা মাঠে এ ঘটনার প্রতিকার ও টাকা-পাসপোর্ট ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।

তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ও তাঁর শ্যালক মিন্টুর নেতৃত্বে একটি চক্র জাপানে কৃষি ভিসায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত ২০টি পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল, ধারা, কৈচাপুর এবং পার্শ্ববর্তী ফুলপুর উপজেলার অন্তত ২০ জনের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ভুয়া ম্যানপাওয়ার ও বিএমইটির কাগজপত্রের কপি।

মানববন্ধনে জানানো হয়, আল মামুন নামের এক তরুণকে জাপানে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়। এ জন্য তিনি বায়িং হাউসের চাকরিও ছেড়েছেন। কিন্তু প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে তিনি চাকরির পাশাপাশি টাকাও হারালেন। উপজেলার চাদশ্রী গ্রামের রায়হান ঋণ করে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিলেন প্রতারকদের হাতে। এখন তাঁর পাসপোর্টও আটকে রেখেছে প্রতারক চক্র। এ ছাড়া ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে নিজের শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে চক্রের হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলেন কাউলারা এলাকার আবু কালাম। প্রতারিত হয়ে এখন তিনি তিন কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীদের দীর্ঘ এই তালিকায় আরও রয়েছেন নূর হোসেন, রামিম, সানি, আলমগীর, রাহাতুর রহমান শামীম, জাহাঙ্গীর, রফিকুল ইসলাম, সিজান মাহমুদ, কালাম, সামিউল, সাঈম, জাফির হোসেন, ইমরুল কায়েস, খোরশেদ, শাহিন, নাছিমুল, নাছিম সিদ্দিকী, মাফিজুল ইসলাম ও জোবায়ের হোসেনসহ অনেকে।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা বলেন, টাকা আত্মসাতের পাশাপাশি তাঁদের পাসপোর্টও আটকে রেখেছে প্রতারক চক্র। ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় অন্য কোনো বৈধ মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার সুযোগও বন্ধ হয়ে গেছে। সুদ ও ঋণের চাপে অনেক পরিবার এখন ভিটেমাটি হারানোর উপক্রম।

ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে প্রতারকদের হাত থেকে নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা ও পাসপোর্ট উদ্ধার এবং এই চক্রের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত