
রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ওরফে জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ডাকাতির সন্দেহ করছে পুলিশ। তবে নিহতদের পরিবারের দাবি, এটি ডাকাতির ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির বিরোধও ছিল বলে দাবি করেছেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর স্বজনেরা।
গতকাল শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ির ছাদ, চিলেকোঠা ও ঘর থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গণপতি চক্রবর্তী গত ডিসেম্বরে রংপুর জেলা স্কুল থেকে অবসর নেন। অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাসেবা দিতেন। স্বজনেরা জানান, দুই দিন ধরে পরিবারের চার সদস্যের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তাঁরা বাড়িতে এসে মূল ফটকে তালা ঝুলতে এবং পুরো বাড়ি অন্ধকার দেখতে পান। পরে বাড়িতে ঢুকে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ দেখতে পান তাঁরা।
রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাড়িটির বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পারিপার্শ্বিকতা ও ভেতরের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে আমার মনে হয়েছে, এটি ডাকাতির ঘটনা হতে পারে। যেসব আসবাব ও জায়গায় সাধারণত টাকা-পয়সা বা গয়না রাখা হয়, সেগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে তদন্ত না করে এখনই চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
তবে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী দাবি করেন, বাড়ি নির্মাণের সময় চাঁদার টাকা নিয়ে একটি ঝামেলা হয়েছিল। তাঁর ধারণা, সেই বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘বাড়ি করার সময় চাঁদার টাকা নিয়ে একটা ঝামেলা ছিল। এরপর তাঁরা বাড়িতে বসবাস করছিলেন। বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করে ঘটনাটিকে অন্যভাবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।’ তিনি জানান, গণপতির শ্যালকের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, পরিবারের চার সদস্যের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোনই বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। এ ছাড়া বাড়ির মূল ফটকে তালা ঝুলছিল এবং ভেতরে ছিল অন্ধকার। পরে স্থানীয় এক যুবককে বাড়িতে খোঁজ নিতে পাঠানো হয়। তবে তিনি সেখানে পৌঁছানোর আগেই স্বজনেরা বাড়িতে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান।
সরেজমিনে মাছুয়াপাড়া এলাকায় দেখা যায়, দুইতলা বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। নিচতলায় নির্মাণকাজ চলছিল। ওপরের তলার নির্মাণকাজ শেষ করে সেখানেই পরিবারটি বসবাস করত। চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাড়ির সামনে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের ভিড় দেখা যায়।

পাশের বাড়ির গৃহবধূ সোনালী দাস বলেন, ‘খুব ভালো পরিবার ছিল। সবার সঙ্গে মিশত, কথা বলত। কারা যে তাদের এমন নৃশংসভাবে হত্যা করল, জানি না। পরিবারে শত্রুতা ছিল, নাকি বাইরের কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল, তা তদন্তেই জানা যাবে।’
রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। দুপুর ১২টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে জেলা স্কুলসহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

কুমিল্লায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৯২ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত দুটি যানবাহনও জব্দ করা হয়।
২০ মিনিট আগে
গণপতির চিৎকার শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতেই তাঁকে হত্যা করা হয়। এরপর মেয়েকে এবং সর্বশেষ ১২ বছরের শিশু প্রিয়মকে হত্যা করা হয়। পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রিয়ম আসামিদের চিনত। সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তাকেও হত্যা করা হয়।
২৪ মিনিট আগে
এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘এই সেক্টরে আমাদের তিন হাজার কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগ। এক হাজারের বেশি মালিক ও তাদের পরিবার জড়িত। এই স্লিপার বাস একদিনে তৈরি হয়নি। ৮/১০ বছর ধরে চলছে। বিআরটিএ বেশি টাকা নিয়ে নিবন্ধনও দিয়েছে। এখন তারা কীভাবে এটিকে অবৈধ বলেন?’
২৭ মিনিট আগে
পরিদর্শনে রোগীদের কাছ থেকে হাসপাতালের সার্বিক সেবার বিষয়ে সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া পেলেও বেশ কিছু অনিয়ম ও সীমাবদ্ধতা মন্ত্রীর নজরে আসে। এক চিকিৎসক ৪৫ মিনিট দেরিতে দায়িত্বে আসায় তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
১ ঘণ্টা আগে