Ajker Patrika

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সময়ভিত্তিক রোডম্যাপের দাবি ইউসিআরের

কক্সবাজার প্রতিনিধি
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সময়ভিত্তিক রোডম্যাপের দাবি ইউসিআরের

‘নয় বছর অনেক দীর্ঘ। আর কোনো অনির্দিষ্টকালীন বাস্তুচ্যুতি নয়। রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির এখনই সময়।’ জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সামনে রেখে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে সময়ভিত্তিক ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির দাবি জানিয়েছে ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ার জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ইউসিআরের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, প্রায় এক দশক ধরে তাঁরা বাংলাদেশে বাস্তুচ্যুত জীবন কাটাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করলেও সংকট সমাধানে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। তাই শুধু সহমর্মিতা বা প্রতিশ্রুতি নয়, প্রত্যাবাসনের জন্য সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, জাতিসংঘের চলমান সাধারণ পরিষদের অধিবেশন রোহিঙ্গা সংকটকে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপের আহ্বান জানিয়েছেন।

রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে হওয়ায় এর টেকসই সমাধানও সেখানে করতে হবে। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার জন্য সহিংসতা ও নিপীড়ন বন্ধের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে চলাফেরা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

ইউসিআরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মৌলভী সাইদ উল্লাহ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গারা আশ্রয়শিবিরে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে বসবাস করছেন। অনির্দিষ্টকাল শিবিরে রেখে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। এখন রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।’

রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরার অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বহুবার কথা বলেছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা এখনো শিবিরেই রয়েছি। এবার প্রত্যাবাসনের একটি সুনির্দিষ্ট ও সময়ভিত্তিক রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।’

রোহিঙ্গা নারী নেত্রী সাজিদা বেগম বলেন, দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুত জীবনে রোহিঙ্গা নারীরা নানা সংকটে রয়েছেন। নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি না হলে সংকট আরও দীর্ঘ হবে।

১৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা নুরুজ্জামা বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমরা নিজেদের দেশ, ঘরবাড়ি ও স্বজনদের কাছে ফিরে যেতে চাই। নিরাপদে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’

সমাবেশে বক্তারা প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি আশ্রয়শিবিরে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার বিচার এবং আন্তর্জাতিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাঁদের মতে, অতীতের নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি হবে না—এমন বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা ছাড়া প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না।

মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে ২০১৭ সালের আগস্টে সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরপর ২০২৪ সাল থেকে আরও প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা নতুন করে অনুপ্রবেশ করেছে।

নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং নোয়াখালীর ভাসানচরের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে কমপক্ষে ১৪ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত