Ajker Patrika

রংপুরে ৪ খুন: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, কারাগারে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ

রংপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২: ৪৬
রংপুরে ৪ খুন: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, কারাগারে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে কারাগারে নেওয়া হচ্ছে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ১২ বছরের ছেলেকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই তরুণ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-২–এ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার দুই তরুণ হলেন মাছুয়াপাড়া গ্রামের মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস। আদালতের বিচারক রফিকুল ইসলামের কাছে তাঁরা হত্যা মামলায় সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। শনিবার ভোরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার রাত ৭টার দিকে কড়া পাহারায় তাঁদের আদালতে নেওয়া হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বলেন, চার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে জবানবন্দিতে কী বলেছেন, তা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আসামিরা নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।’

সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে কী স্বীকার করেছেন, তিনি বলেন, ‘অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা।’ ইয়াবা সেবন দেখে ফেলার কারণেই কি হত্যা করেন—এ বিষয়টি তাঁরা স্বীকার করেছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে এটা ডিসক্লোজ করা সম্ভব হচ্ছে না।’

আরও কেউ জড়িত কি না এবং রিমান্ড চাওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা তদন্তের সাপেক্ষে বলতে পারব। যেহেতু তারা স্বীকার করেছে, এ জন্য রিমান্ড চাওয়ার প্রয়োজন হয়নি।’

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে কারাগারে নেওয়া হচ্ছে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে। ছবি: আজকের পত্রিকা
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে কারাগারে নেওয়া হচ্ছে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে। ছবি: আজকের পত্রিকা

এর আগে রোববার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ আবদুল মাবুদ দাবি করেন, ছাদে ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলায় গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্যকে হত্যা করেন মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘গণপতি চক্রবর্তী স্যার ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁর পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না।’

এ ঘটনায় গতকাল রোববার রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামির সংখ্যাও উল্লেখ করা হয়নি।

এজাহার অনুযায়ী, ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতার মোবাইল ফোন থেকে তাঁর ছোট বোন পূজা চক্রবর্তীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শুক্রবার রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো একসময় হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে পূজা আবার বড় বোন প্রীতিলতাকে ফোন করেন। তখন পরিবারের চারজনের মোবাইল ফোনই বন্ধ পান তিনি। সন্দেহ হওয়ায় রাতে স্বামী বিপুল আচার্যকে নিয়ে বোনের বাড়িতে যান পূজা।

বাড়িটি তখন অন্ধকার ছিল। ভেতর থেকেও কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির ওপর দিয়ে গণপতির বাড়ির ছাদে ওঠেন পূজা। জানালার লক ভেঙে টর্চের আলোয় ঘরের ভেতর তাকিয়ে তিনি দেখেন, জিনিসপত্র এলোমেলো। একই সঙ্গে বাড়ির ভেতর থেকে পচা গন্ধ বের হচ্ছিল।

এজাহারে বলা হয়েছে, আলমারি, শোকেস, আসবাব, কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এতে হত্যার পর ঘটনাটিকে অন্য কোনো ঘটনার মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন। আর সিদ্ধার্থ দাস প্রায় আট বছর ধরে একটি জুয়েলার্সে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত