Ajker Patrika

যশোর-২: পরাজিত এমপি প্রার্থীকে নিয়ে বিএনপিতে উত্তাপ

  • ভোটের এক মাস পেরিয়ে গেলেও ­পরাজয় নিয়ে উত্তাপ ঝিকরগাছা ও চৌগাছা বিএনপিতে।
  • দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টিসহ নানা অভিযোগ পরাজিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
  • চাঁদাবাজি, দখলদারিসহ নানা অপকর্মকারীদের পৃষ্ঠপোষকতার পাল্টা অভিযোগ পরাজিত প্রার্থীর।
­যশোর প্রতিনিধি
যশোর-২: পরাজিত এমপি প্রার্থীকে নিয়ে বিএনপিতে উত্তাপ

এক মাস আগে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানা। কিন্তু জয়-­পরাজয় হিসাব-নিকাশ নিয়ে এখনো উত্তাপ কমেনি উপজেলা দুটির বিএনপির নেতা-কর্মীদের।

দলটির একাংশের নেতারা পরাজিত সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানার বিরুদ্ধে দলে বিভক্তি সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন। যদিও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবিরা সুলতানা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি এসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারি, মাদক কারবারসহ নানা অপকর্মকারীদের পৃষ্ঠপোষকতার পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন।

দুই উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতারা গতকাল রোববার বিকেলে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলা ও পৌর বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান সামাদ নিপুণ বলেন, সাবিরা সুলতানা নিজের সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতেই দলের ত্যাগী ও প্রবীণ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন পান। নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের কাছে পরাজিত হন। এর পর থেকে সাবিরা বিভিন্ন সমাবেশ ও গণমাধ্যমে তাঁর পরাজিত হওয়ার পেছনে দুই উপজেলার দলীয় শীর্ষ নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতার কথা বলছেন।

ইমরান হাসান সামাদ নিপুণ বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের মূল কারণ প্রার্থীর অদক্ষতা, অহংকার এবং তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্নতা। সাবিরা সুলতানার আপন চাচাশ্বশুর আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতা এবং অপর এক আত্মীয় জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা হওয়া সত্ত্বেও হাইকমান্ড তাঁকে মনোনয়ন দেয়। কিন্তু তিনি দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত আত্মীয়স্বজনের গুরুত্ব দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনের সময় দলীয় ব্যানার ব্যবহার না করে সাবিরা তাঁর স্বামীর নামে করা নাজমুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের ব্যানারে প্রচার চালান। তিনি মূলধারার নেতা-কর্মীদের পাশ কাটিয়ে চলেছিলেন। নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে উপজেলা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করে পকেট কমিটি গঠন এবং ছাত্রদল ও যুবদলের ত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে দলে বিভক্তি সৃষ্টি করেন।

ইমরান হাসান সামাদ নিপুণ আরও বলেন, এই আসনে প্রবাসী ই-পোস্টাল ভোটারদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রায় ১৩ হাজার ভোট পেয়েছেন, সেখানে সাবিরা সুলতানার প্রাপ্ত ভোট মাত্র ১ হাজার ৬০০-এর কিছু বেশি। এটি প্রার্থীর প্রতি সাধারণ ভোটারদের অনাস্থারই বহিঃপ্রকাশ। সাবিরা সুলতানা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসেননি। বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হামলা-মামলার শিকার হওয়া নেতা-কর্মীদের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো এখন তাঁদের বিশ্বাসঘাতক বলে অপবাদ দিচ্ছেন। যে কারণে তিনি নিজ ভোটকেন্দ্র কীর্তিপুরসহ বেশির ভাগ কেন্দ্রে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন।

সাবিরা সুলতানার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, দলের ঐক্য বিনষ্ট করা, অপতৎপরতাসহ নানা অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোর্ত্তজা এলাহী টিপু, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল হকসহ দুই উপজেলা বিএনপি, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানা বলেন, ‘তারা (অভিযোগকারী) একটি সংঘবদ্ধ রাজনৈতিক চক্র; যারা সব সময় বিশেষ বিশেষ সময়ে দলের বিপক্ষে কাজ করে। চব্বিশের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিশে কাজ করেছে। ৫ আগস্টের পর এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলদারি, মাদক কারবারসহ নানা অপকর্মে জড়িতদের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে। দফায় দফায় জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকসহ আর্থিক লেনদেন করেছে। দল আমাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করেই মনোনয়ন দিয়েছিল। আমি নির্বাচিত হলে তাদের অনৈতিক কাজে বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা ছিল। এ জন্য তারা আমার বিরোধিতা করেছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ইরানের পরমাণু স্থাপনা এখন ধ্বংসস্তূপ, নিরাপদ নৌ চলাচলে আলোচনার পথ খোলা: আরাঘচি

হাদি হত্যা: ফয়সালদের সীমান্ত পার করা ফিলিপ সাংমার স্বীকারোক্তিতে নতুন তথ্য

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুর্বৃত্তের গুলি, কনটেন্ট ক্রিয়েটর নিহত

প্রাকৃতিক দুর্গ ইরান কেন দুর্জেয়, স্থল অভিযানে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র

৫ জেলায় নতুন ডিসি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত